২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

জীবন মিনারেল ওয়াটারে মাত্রাতিরিক্ত জীবাণু ও শেওলা ( ভিডিও )

আপডেট: মে ১৫, ২০১৮

জীবন মিনারেল ওয়াটারে মাত্রাতিরিক্ত জীবাণু ও শেওলা ( ভিডিও )

আবুল কালাম আজাদ: পানির অপর নাম জীবন। আর সে জীবন নিয়েই চলছে প্রতারণা। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে একটি সংস্থার মিটিংয়ে সিটি গ্রুপের জীবন মিনারেল ওয়াটার নিয়ে আসলে তম্মধ্যে দুটি ইনট্যাক বোতলে দৃশ্যমান জীবাণু ও শেওলা পাওয়া যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জীবন মিনারেল ওয়াটারের ইনট্যাক হলোগ্রামযুক্ত বোতলে শেওলাসহ অন্যান্য জীবাণু ভাসছে যা খালি চোখেই অত্যন্ত দৃশ্যমান।

এ প্রতিবেদক উক্ত বিষয়ে জানার জন্য, সিটি গ্রুপের উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা জনাব, রুবায়েত আহমেদসহ একাধিক কর্মকর্তার যোগাযোগ করেও কোন সদুত্তর পাননি। এছাড়াও বিভিন্ন নামে ঢাকার শহরের আনাচকানাচে শতাধিক পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অধিকাংশ মিনারেল ওয়াটার কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এরা ওয়াসার পানি বোতলজাত করে নাম দেয় মিনারেল ওয়াটার।
বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায় সব ধরনের খাবারে ভেজাল মিশ্রণ যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে ভোজ্যতেল, তরল দুধ, মসলার গুঁড়া, শাকসবজি, ফলমূল এমনকি শিশুদের খাবারেও পাওয়া যাচ্ছে ভেজাল। ভেজাল মিশ্রিত খাবার খেয়ে দিন দিন মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বেশি লাভের আশায় একশ্রেণির অসৎ মানুষ নিজেদের পাশাপাশি ক্ষতি করছে গোটা জাতির। ভেজাল খাবার, ওষুধ এবং ভেজাল পানীয়জল প্রতিরোধে বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিবাদ মিছিল এবং মোবাইল কোর্ট, জরিমানাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনোভাবেই খাদ্যে ভেজাল মেশানো প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। অনুসন্ধান করতে গিয়ে খাবারে ব্যাপকহারে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেছে।
মিনারেল ওয়াটারে পাওয়া যাচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত জীবাণু। এসব পানিতে লেড, ক্যাডমিয়াম ও জিঙ্ক উপাদান বোতলের গায়ে উল্লিখিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরিমাণমতো নেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু কিছু ব্র্যান্ডেড পানির বোতলের গায়ে সংমিশ্রিত উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা থাকে। বোতল, জার ও প্লাস্টিক প্যাকেটের পানিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত আয়রণ, পিএইচ, ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আছে নামকাওয়াস্তে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথভাবে ফিল্টারেশনও (ছাঁকন প্রক্রিয়া) অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এভাবে অবৈধ পানি প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানে ভরে গেছে মহানগরী ঢাকা। অপরদিকে রাজধানীর আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অনুমোদিত/অনুমোদনহীন এসব কারখানা। এদের অধিকাংশেরই নেই বিএসটিআইর অনুমোদন। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কোনো মতে পানি শোধনের যন্ত্র স্থাপন করেই নোংরা পরিবেশে চলছে ব্যবসা। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই নেই রসায়নবিদ ও পরীক্ষাগার। খনিজ পানি উত্তোলনের পর তা শোধন করে জারে ভরার শর্ত থাকলেও ওয়াসার পানিই জারে ভরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবেই ভোক্তাদের সঙ্গে চলছে প্রতিনিয়ত মিনারেল ওয়াটার প্রতারণা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর, তোপখানা রোড, রমনা, রাজারবাগ, মানিকনগর, রামপুরা-বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য পানি প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কোনোরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চুটিয়ে ব্যবসা করছেন।

বিএসটিআই সূত্র জানায়, বাজারজাত করা পানি অবশ্যই খনিজ পানি হতে হবে। পাশাপাশি কারখানায় অবশ্যই রাসায়নিক পরীক্ষাগার ও রসায়নবিদ থাকতে হবে। থাকতে হবে পানির ক্ষারত্বের মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। জারগুলো হতে হবে পরিচ্ছন্ন। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা এসব লেখা থাকতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে জানায় বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ। তারপরও এ পানি প্রতি জার ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই পানি বিভিন্ন খাবার হোটেলে প্রতি গ্লাস বিক্রি হচ্ছে এক থেকে দুই টাকায়। একটু সুস্থ থাকার আশায় সাধারণ মানুষ যেন টাকা দিয়ে পানি নামক বিষ কিনে খাচ্ছেন!