গত ৩০শে ডিসেম্বর রাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চূড়ান্ত কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। দুই দিকে মেয়র প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা না হলেও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে এখনো বিপাকে দলটি। প্রায় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে রয়েছে বিএনপি’র একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।
দুই সিটিতে প্রায় শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সাক্ষাৎকারের সময় বিএনপি যে অঙ্গীকারনামা নিয়েছিল সেটিও মানছেন না বিদ্রোহীরা। এদিকে বিএনপি থেকে যারা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে।
এদের মধ্যে কেউ আছেন পলাতক, আবার কেউ জামিনে। গত বৃহস্পতিবার বংশাল থানা বিএনপির সভাপতি ও দক্ষিণের ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তাজউদ্দিন আহমেদ তাইজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে দুই মামলার ওয়ারেন্ট দেখানো হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নাদিম চৌধুরী আগাম জামিন নিয়েছেন। আট সপ্তাহের জন্য তাকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১২ই ডিসেম্বর একটি ভাংচুর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় যাদের নামে মামলা রয়েছে তাদের আগাম জামিন নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। যারা জামিন পাবেন তাদেরকেই দল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয়া হবে। আর বিএনপির বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়ে শিগগিরই বসে সমাধান করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। নেতাদের দাবি, বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তারা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। যদিও ৯ই জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারে শেষ দিন। দুই সিটিতে কাউন্সিল পদে ঢাকা মহানগর উত্তরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি। উত্তরের প্রায় সব ওয়ার্ডে বিদ্রোহী রয়েছে। জানা যায়, সিনিয়র নেতাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বিএনপি এখন পর্যন্ত ৫টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল যদি শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্যায়ন না করে তাহলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের অংশ নেবেন।
এদিকে দক্ষিণে ২০ নং ওয়ার্ড এবং উত্তরে ৫, ৩৪, ১৪ নং ওয়ার্ডে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। দক্ষিণ সিটির ১৯ নং ওয়ার্ড থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মৎসজীবী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদিম চৌধুরী। কিন্তু এখানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল মোতালেব রুবেল ও আশরাফুল ইসলামও মনোনয়ন প্রত্যাশী। ২০নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা এমএ হান্নান, জাহিদ হোসেন নওয়াব ও রফিকুল ইসলাম স্বপন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪৬ নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজী ফারুক।
তিনি গেণ্ডারিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। সেখানে গেণ্ডারিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনির সম্পাদক ডালী মামুনুর রশীদ অপু ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সোহেলও প্রার্থী হয়েছেন। ১০ নং ওয়ার্ডে দল সমর্থন দিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদকে। বিএনপির সমর্থন না পেলেও এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন মতিঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। ১৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলটির সমর্থন পেয়েছেন থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক উদ্দিন ভূঁইয়া।
এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু নাছের লিটন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ১নং ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হুমায়ুন কবির ও জামাল উদ্দিন জামান, ৪ নং ওয়ার্ডে মো. মোরসালিন ও হারুনুর রশীদ, ৯ নং ওয়ার্ডে আহাম্মদ আলী ও মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন, ৫১ নং এ কবির আহমেদ, ৫২ নং এ বাদল রানা, ১৮ নং জোবায়ের এজাজসহ আরও অনেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। দক্ষিণের মতো উত্তরেও অনেক ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ২ নং ওয়ার্ডে গোলাম মোস্তফা মাস্টার, ৩নং ওয়ার্ডে আমান উল্লাহ আমান, জামাল হোসেন, ৪ নং ওয়ার্ডে সাব্বির দেওয়ান জনি, ৫ নং ওয়ার্ডে বুলবুল মল্লিক, আশরাফ আলী গাজী, ৬ নং ওয়ার্ডে আমজাদ হোসেন মোল্লাহ, হাবিবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, ৭ নং ওয়ার্ডে গোলাম রাব্বানী, রাসেল চৌধুরী, ৮ নং ওয়ার্ডে সোলাইমান খান দেওয়ান, সৈয়দ মোস্তফা কায়সার, ৯ নং ওয়ার্ডে ইমরান হোসেন, ১০ নং ওয়ার্ডে সাফায়েত রাব্বী আরাফাত, ১২ নং ওয়ার্ডে মুন্সি জাকির হোসেন, ১৩ নং ওয়ার্ডে শাকিল মোল্লা।
১৪ নং ওয়ার্ডে আহসান উল্লাহ হাসান, শরিফুল ইসলাম মিলন, ১৫ ওয়ার্ডে নং ইসমাইল হোসেন বকুল, জিন্নাত আলী, ১৬ নং ওয়ার্ডে সৈয়দ একরাম হোসেন, ১৮ নং ওয়ার্ডে ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবদুল লতিফ, শফিকুল ইসলাম শাহীন, ১৯ নং ওয়ার্ডে অহিদুজ্জামান বাবুল, ২০ নং ওয়ার্ডে সেলিম আহমেদ রাজু, ২৩ নং ওয়ার্ডে কামাল আহমেদ দুলু, আবুল মেসেরসহ বিদ্রোহী প্রার্থী অনেক। উল্লেখ্য, বিএনপির দায়িত্ব প্রাপ্ত তিনটি কমিটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য কাউন্সিলর (সাধারণ) পদে দলীয় মনোনয়ন ফরম নেয়া ২২০ জন এবং নারী (সংরক্ষিত) কাউন্সিলর পদে ফরম নেয়া ৬০ জনসহ মোট ২৮০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়। উত্তরে কাউন্সিলর (সাধারণ) পদের দলীয় ফরম নেয়া ১৬২ জন এবং সংরক্ষিত মনোনয়ন ফরম নেয়া ৩৪ জনসহ মোট ১৯৬ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে দলীয় সমর্থন দেয়া হয়।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস