মৌলভীবাজার-শমসেরনগর সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে হাতেনাতে অনিয়ম ধরলেন মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি শমসেরনগর সড়কের কাজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনসাধারণ নানা অভিযোগ করেন। তিনি ওই অভিযোগের সত্যতাও পান।
সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি মৌলভীবাজার সওজের সহকারী প্রকৌশলী। ঠিকাদারকে ফোন করা হলেও তিনি তাতে কোন সাড়া দেননি।
পরিদর্শনকালে সাংসদ জোহরা আলাউদ্দিনের কাছে এলাকার মানুষ অভিযোগ করেন, পুরনো পাথর ও নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তায় কাজ করা হচ্ছে। ওই সময় রাস্তার পাশের ইট তুলে দেখা যায় এগুলো খুবই নিম্নমানের।
শমসেরনগর এলাকার সোহেল আহমদ অভিযোগ করে বলেন,‘পুরাতন পাথর কিভাবে নতুন কাজে দেয়া হয়। কারণ নতুন বাজেট তো পুরাতন পাথরই থাকার কথা না। এই পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে যতবার এসেছি। পুরাতন পাথর দিয়েই কাজ করতে দেখেছি।’
৪২ কোটি ৮০লক্ষ ৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মৌলভীবাজার-সমশেরনগর সড়কের নিম্নমানের কাজ হচ্ছে জানিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন ।
বুধবার দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট গ্রামের শমসেরনগর সড়কে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের সাথে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এমন ক্ষোভ জানান সাংসদ জোহরা আলাউদ্দিন এমপি।
এসময় এলাকাবাসী এমপিকে কাছে পেয়ে জানান, রাস্তায় পুরাতন পাথরের সাথে নতুন পাথর আর বালি মিশ্রিত করে ফেলা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য নিজে কোদাল হাতে নিয়ে রাস্তা খনন করে দেখতে পান সেখানে পুরাতন পাথর ফেলা হচ্ছে। খবর পেয়ে এসময় সেখানে উপস্থিত হন সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মুহিন রানা।
রাস্তা পরিদর্শনকালে সহকারি প্রকৌশলী মুহিন রানার কাছে রাস্তায় নিম্নমানের কাজের বিষয়ে নিজের ক্ষোভ আর অসন্তোষের কথা জানিয়ে তিনি জানতে চান এ বিষয়ে আলোচনা করতে একাধিকবার ফোন করেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাওয়া যাচ্ছেনা কেন?। একজন সংসদ সদস্য’র চেয়েও তিনি কি বড় ? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই প্রকৌশলী জানান তিনি সবসময় মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় যোগাযোগ করতে পারছেন না।
সংসদ সদস্য জোহরা আলাউদ্দিন এমপি জানান এবিষয়ে তিনি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানাবেন। রাস্তা নির্মাণের কাজে নিম্নমান আর কোন প্রকার অনিয়ম দূর্নীতি সহ্য করা হবেনা বলেও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি সবসময় ব্যস্ত থাকি, কখনো সংসদ অধিবেশন আবার কখনো মিটিং নিয়ে। কাজেই এখন থেকে আপনারা এই রাস্তার কাজের বিষয়ে সবসময় খোঁজ খবর নিবেন, কোন প্রকার অনিয়ম পেলে আপনারা গণমাধ্যমে তা তুলে ধরবেন। দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় এই উন্নয়ন হচ্ছে কাজেই সেক্ষেত্রে কোন অনিয়ম মানা হবে না।
বিগত ২০১৮ সালের শেষ দিকে একনেক এর বৈঠকে চুড়ান্ত অনুমোদন পেলেও শেষ পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়নি। অবশেষে ২০১৯ সালে সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের সীমাহীন ভোগান্তি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে সোস্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ জানান অনেকেই।
সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরাবর সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি কর্তৃক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রদানের পর জেলা মহাসড়ক সমূহ যথাযথ মান প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (সিলেট জোন) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মৌলভীবাজার-শমসেরনগর-চাতলা চেকপোষ্ট (জেড-২০০২) মহাসড়কটি উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ৪২ কোটি ৮০লক্ষ টাকা ব্যয়ে দরপত্র সম্পন্ন শেষ হলে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় দফা দরপত্রের মাধ্যমে শেষ হবে সড়কটির অবশিষ্ট অংশের সংস্কার কাজ।
২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয় , কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড়বড় গর্তসহ মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পিএমপি মাইনর (জরুরী মেরামত) এর মাধ্যমে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করে সড়কটি কোনরকম সচল রাখা হলেও জন দুর্ভোগ চুড়ান্ত আকার ধারণ করে।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস