প্রতীক বরাদ্দ প্রচারণা শুরু কাল

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোটগ্রহণ চায় দলটি। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ হোক।

এ জন্য সরকার কী সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলাম। প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেছেন, বিএনপি মহাসুবিধায় আছে। আমাদের তো মুখে কুলুপ লাগানো। প্রচারণা করতে পারছি না আমরা।

এদিকে দুই সিটি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। কাল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং অফিসাররা। এর পরে প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নামতে পারবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনে মহাসুবিধায় আছে বিএনপি : আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, সিটি নির্বাচন ইভিএমে হবে। আমরা চাই, এ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ হোক। এই প্রথম একটি নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

এর আগে উপনির্বাচনে কয়েকটিতে ইভিএমে খুব সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে। এখানেও যদি হয়, ভবিষ্যতে সারা দেশেই হয়তো ইভিএমে সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারব। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সিটি ভোট নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলে পৌনে ২টা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনের এক সভায় ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। এ বৈঠকে অন্য নির্বাচন কমিশনার, দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার। এইচ টি ইমাম বলেন, প্রচারণার বিষয়ে বিএনপির জন্য তো মহাসুবিধা।

তারা সবাই সব রকম প্রচার করছেন। যা বলার তাই বলছেন। আর আমাদের মুখে কুলুপ লাগানো। প্রচারণা করতে পারছি না আমরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ-সুবিধার জন্য আইন পরিবর্তন করা হোক, এটা আমরা বলতে চাই না। ইভিএম নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, মেশিন তো কাউকে চেনে না। এটি পরীক্ষিত। ইভিএম আমাদের কাছে যেমন, বিএনপির কাছেও তেমন। সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আচরণবিধিতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মন্ত্রী-এমপিদের বাধা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি ভোটের কার্যক্রমে এমপিদের সম্পৃক্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সেটা তো দলীয় কার্যক্রম। নির্বাচনী কার্যক্রম নয়। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারও এখন শুরু হয়নি। তিনি বলেন, কমিশনকে ধন্যবাদ। তারা ইভিএমের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন, যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তারা বিষয়টা জানেন। ইভিএমের যেন যান্ত্রিক ত্রুটি না হয়। এ জন্য সেনাবাহিনীর টেকনিশিয়ান থাকবে। ব্যাকআপ হিসেবে ৫০ শতাংশ মেশিন রাখা হবে। যেন একটিতে সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি লাগিয়ে দেওয়া যায়।

বিধি লঙ্ঘন করিনি, মিলাদে গিয়েছি : নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, উত্তরায় আওয়ামী লীগের মিলাদে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আগামীতে আচরণবিধি প্রতিপালনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ‘এ ধরনের কাজ’ আর করবেন না। তবে এরমধ্যেই আতিকের নির্বাচনী এলাকা উত্তরায় স্থানীয় এমপি সাহারা খাতুন তার নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন করেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামও সেখানে ছিলেন বলে এসব খবরে বলা হয়। রবিবার ওই সংবাদ প্রকাশের পর আতিকের কাছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল ওই নোটিসের জবাব দিয়েছেন নৌকার প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন, আমার মনোনয়ন উপলক্ষে উত্তরা থানা আওয়ামী লীগ একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

এ মিলাদে আমি যোগ দিই। কিন্তু কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণামূলক বক্তব্য প্রদান করিনি। এতে আচরণবিধির কোনো বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হয় না। আগামীতে আচরণবিধি প্রতিপালনে সজাগ থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন আতিক। তিনি বলেছেন, আচরণবিধি মেনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমার দ্বারা আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি, হবেও না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর শোকজ নোটিসের জবাব পেয়েছি। আমরা ক্যাম্পের বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম, তবে জবাবের চিঠিতে সেটি উল্লেখ নেই। জবাবে বলেছেন, আচরণবিধি মেনে চলতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় কাজ আর করবেন না।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর