একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে কাদা হয়। কাদা পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। উপজেলার ছনখলা-কোনাগাঁও সংযুক্ত কাচা রাস্তাটি সংস্কারের কথা কোনো জনপ্রতিনিধিই মনে রাখেন না। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি থাকলেও পরে আর তাদের দেখা মেলে না। অবশেষে এলাকাবাসী নিজেরাই সেচ্ছাশ্রমে চাঁদা তোলে শুরু করেছেন রাস্তা প্রশস্তকরণ ও মাটি ভরাটের কাজ।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের ছনখলা-কোনাগাঁও পশ্চিম-উত্তর পাড়া গ্রামের মানুষের কথা এটি। ৪দিন যাবত ধরে তারা নিজেরাই মাটি কেটে নিজেদের রাস্তা প্রশস্তকরণ ও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছেন। প্রথম দিনেই মাটি ভরাটের কাজের শ্রমিককে শ্রমের মূল্য দিতে হয়েছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
সরেজমিন সেচ্ছাশ্রমে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও মাটি ভরাটের কাজ দেখতে গিয়ে জানা যায়, তারা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পশ্চিমে ইছালিয়া ছড়া আর উত্তরে মাষ্ঠারের খাল সংলগ্ন নিচু রাস্তায় জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় এক কিলোমিটার এ রাস্তাটি দিয়ে গোবরখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জারুলিয়া দাখিল মাদ্রসা, আসামপাড়া বাজার ও ভোটের সময় ৪নং ওয়ার্ডের ছনখলা ভোটকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে যাথায়াত করতে হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে বার-বার আবেদন করলেও তারা ওই মাটির রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নি।
ওই গ্রামের ৯১ বছর বয়সী একজন বিশিষ্ট মুরুব্বী হাজ্বী আব্দুর রহমান বলেন, বুক ভরা ব্যাথা আর চোখ ভরা পানি নিয়ে বার-বার অনুরুধ করেছি ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করে দেওয়ার জন্য, কিন্তু অদ্যবধি পর্যন্ত কেউ’ই এক উরা মাটি এ রাস্তায় পেলেন নি। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর নিজেরাই রাস্তাটি সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে গ্রামবাসী মাটি কাটতে শুরু করেছে। জাহির, মানিক মিয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেকেই বলেছেন, আমরা উন্নয়ন বি ত এবং অবহেলিত গ্রামবাসী। আমাদের মূল্যায়ন শুধু ভোটের সময়। ভোট গেলে আর কেউ খোঁজ নেয় না।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস