ঢাকা’র দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চান। সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে বুধবার আইজি প্রিজন ও জেল সুপার বরাবর চিঠি দিয়েছেন তারা।
রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন ইশরাক।
বৈঠকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাবিথ ও ইশরাককে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এই দুই প্রার্থীর পক্ষে ফ্রন্টের নেতারা প্রচারণায়ও অংশ নেবেন।
তাবিথ ও ইশরাকের সাক্ষাতের পর ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দেখেছি যে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে ফল ঘোষণা হয়ে যায়। আমাদের আশঙ্কা যে, এবারও একই ধরনের একটা নাটক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, সরকার নানা কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে সবদিক থেকে ধ্বংস করেছে, সেই প্রস্তুতি তারা আবার নিচ্ছে।
নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও দেশকে বাঁচানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, জনগণ যেটা চাচ্ছে সেভাবে যেন নির্বাচন করাতে পারি। আর যদি সরকার একদম নির্লজ্জভাবে সবকিছু ধ্বংস করে তখন আমাদের আন্দোলন করে এগিয়ে যেতে হবে।
এসময় ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই নির্বাচন আমরা আক্ষরিক অর্থেই শুধু নয়, সর্বাংশে নির্বাচনের মতো করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই অংশ নিতে চাই। ভোট সুষ্ঠু হলে এই নির্বাচনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত। এসময় সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সমালোচনা করেন তিনি।
ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের কাছে আমরা দোয়া চাইতে এসেছি। বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আমরা আবেদন করেছি। সরকারের প্রতি অনুরোধ, আমাদের এই আবেদন গ্রহণ করুন, যাতে ওনার কাছে দোয়া চাইতে পারি। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক বলেন, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোটের ফল প্রভাবিত করা হবে। নিজেদের প্রাথমিক বিজয় হয়েছে উলেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ভীত, হেরে যাওয়ার ভয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দিক-নির্দেশনা দিয়েছে। তবে যতই বাধা আসুক, মাঠ ছেড়ে যাব না, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাব।
এসময় উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, আমরা যা আশঙ্কা করেছিলাম, সেটাই আছে। ঢাকা উত্তর সিটি থেকে আমি নানা অভিযোগ করলেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। প্রচারণার আগেই যে অনিয়ম আমরা দেখছি, আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তবে সবকিছু জেনেশুনে আমরা নির্বাচনে লড়াই করছি।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মহশিন রশীদ, জেএসডির কার্যকরী সভাপতি সা কা ম আনিছুর রহমান খান ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের শহিদুল্লাহ কায়সার ও বিকল্পধারার মহাসচিব শাহ আহমেদ প্রমুখ।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস