শেরপুরে জেলা অটোটেম্পু, অটোরিক্সা চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং-৪৫৮৮) এর ‘অবৈধ ও স্ব-ঘোষিত কমিটি’ বাতিল এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ৮ জানুয়ারি বুধবার সকালে শহরের খোয়ারপাড় শাপলাচত্ত্বর মোড়ে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ ওয়াজকুরুনী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মন্তাজ আলী, সহ-সভাপতি রহমত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরল আলম, শ্রমিক নেতা হাসানুর রহমান আলাল, মোশারফ হোসেন বুলবুল, মিন্টু মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, হারুনুর রশিদ কাতানি প্রমুখ। ওইসময় প্রায় দেড়শতাধিক সিএনজি চালক-শ্রমিক অংশ নেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের জেলা সদরসহ ৫ টি উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে ২০১৮ সালের ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় নির্বাচন পরিচালনা অন্তঃবর্তী কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন সাব-কমিটি ২০ জুলাই তফসিল ঘোষণাসহ ৪ আগস্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ৯ সদস্যের কাযকরী কমিটির ওই নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি পদে ২-৪ জন প্রার্থী অংশ নেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়।
কিন্তু সংগঠনের স্ব-ঘোষিত আহবায়ক দাবিদার জনৈক আব্দুল হান্নানসহ একটি অশুভ মহলের যোগসাজসে আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক এক পত্র দ্বারা ওই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। এ প্রেক্ষিতে কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ঢাকায় শ্রম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলাটি চলমান থাকাবস্থায় ফের শুরু হয় ষড়যন্ত্র। এক পর্যায়ে আব্দুল হান্নানসহ অশুভ মহলের যোগসাজসে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন অপরাপর কর্মকর্তাদের না জানিয়ে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিলেও তার বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং কোন প্রকার সাধারণ সভা বা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ না নিয়েই ৪ অক্টোবর একটি ভূয়া কমিটি গঠন করে তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে ওই ভূয়া কমিটি বাতিলের দাবিতে ১৮ ডিসেম্বর শ্রম আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আর ওই মামলায় ভূয়া কমিটির কর্মকর্তারা নোটিশ পেয়েই সংগঠনের জেলা ইউনিটসহ বিভিন্ন উপজেলা ও আঞ্চলিক ইউনিটের সুষ্ঠু কার্যক্রমে বাঁধা প্রয়োগসহ নেতাদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগসহ হুমকি দিয়ে আসছে। এজন্য তারা অবৈধ কমিটি বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস