পিলখানার দণ্ডপ্রাপ্তদের খালাস চেয়ে আপিল করবেন আইনজীবী

তৎকালীন বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টের রায়েও যে সকল আসামিরা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘রায়ের অনুলিপিতে তিন বিচারপতির স্বাক্ষর করার পর পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচার করা হয়েছে। এটি ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায়। রায়ের সার্টিফাইড কপি তুলে আমরা এখন দেখব। তার পরে পর্যালোচনা করে আসামিদের খালাস চেয়ে আপিল করব। আশা করি, আপিলে ন্যায় বিচার পাব।’

তার মতে, পৃথিবীতে এত বড় ফৌজদারি মামলার রায় আর হয়নি। তাই ৩০ দিনের মধ্যেই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে সমস্যা হবে জানান। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে এ বিষয়ে কথা বলব। যাতে করে উনি আমাদেরকে আপিলের মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।’

এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জন বিডিআর সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন তৎকালীন ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। ওই রায়ের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের ওপর ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এছাড়া যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে। আর ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ৪৫ জন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। তাদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় ১৬১ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। সাজা হয় মোট ৫৬৮ জনের।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর