শিক্ষকের চড়ে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে ইসমাইল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী। সে উল্লাপাড়া উপজেলার সলংগা ইউনিয়নের চক চৌবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবছর পিইসি পরীক্ষায় পাস করেছে। ইসমাইল চক চৌবিলা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। চরম হতাশায় এখন ইসলামের পরিবার।
ইসমাইলের মা মঞ্জুয়ারা খাতুন অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে গত বছরের নভেম্বর মাসে ক্লাসে পড়া না পারায় ওই ক্লাসে কর্মরত প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুন তার ডান কানে সজোরে চড় কষে দেন। এতে আহত হয় ইসমাইল। তার কান দিয়ে রক্ত ঝরে। তাকে প্রথমে উল্লাপাড়ায় হাই কেয়ার হিয়ারিং সেন্টারে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়।
এখানে কোন উন্নতি না হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে (এনআইইএনটি) ভর্তি করা হয়। এখানে বেশকিছু দিন চিকিৎসা করলেও ইসমাইলের কানের কোন উন্নতি হয়নি। মঞ্জুয়ারা খাতুন জানান, গেল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি তার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছেন।
ডাক্তাররা তাকে বলেছেন ইসমাইল ডান কানে আর কখনও শুনবে না। এ অবস্থায় তার সন্তান কীভাবে লেখাপড়া করবে বা ভবিষ্যতে তার কর্মজীবনে এর প্রভাব কীভাবে পড়বে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। তিনি ঢাকা থেকে ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসার পর প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চক চৌবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
কিন্তু সভাপতি তার আবেদন আমলে নেননি। মঞ্জুয়ারা এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ফরিদা খাতুনে বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে চক চৌবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি আগের। যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি স্কুলে এখন কর্মরত নেই। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তার কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তার পরেও এ বিষয়টি তিনি দেখছেন।
এ ব্যাপারে স্কুলের সভাপতি মতিয়ার রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বাদি বিবাদীর মধ্যে একটা মীমাংসার পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমজি মাহমুদ ইজদানীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়টি তাকে দেখতে বলেছেন। তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
ইজদানী আরো জানান, স্কুলে আপদকালীন প্যারা শিক্ষক নিয়োগের বিধান আছে। তবে সেক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমিত নিতে হয়। কিন্তু স্কুল কমিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন। যেহেতু প্যারা শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতাধীন নন, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
তারপরেও সামাজিক ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সহযোগিতা দেবেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ২/১দিনের মধ্যে তিনি তদন্ত শুরু করবেন। তাকে দেওয়া ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
অভিযুক্ত প্যারা শিক্ষক ফরিদা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বার্তাবাজার/এইচ আর