পাবনায় সাঁথিয়া উপজেলার দাড়ামোধা ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রাম থেকে মাহামুদ হাসান বাবু (৫২) নামে এক ভুয়া মেজরকে আটক করেছে র্যাব-১২।
মঙ্গলবার বিকেলে বিয়ের আসর থেকে তাকে আটক করা হয়। চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ওই গ্রামের কলেজ পড়ুয়া এক কিশোরীকে বিয়ে করে সে। বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার সময় পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের সন্দেহ হলেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার আসল পরিচয় বলে দেয়। পরিবার এবং গ্রামবাসী র্যাবকে খবর দিলে ঘটনা স্থল থেকে র্যাব তাকে আটক করে।
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। সাঁথিয়া উপজেলার দাড়ামোধা ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি আব্দুল রাজ্জাকের মেয়ে এই প্রতারণার শীকার হয়। পরিবারের ইচ্ছা ছিলো বাড়ির বড় মেয়ে সৈনিক পদে চাকুরী করবে। দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রীর মেয় পরিবারের দুঃখ ঘোচাতে রাজশাহীতে সৈনিক পদে দাড়িয়ে ছিলো সৈনিক প্রতারনার শিকার এই ভুক্তভোগি কিশোরী। পরপর দুইবার বাচাই পর্বে অকৃতকার্য হলে গ্রামের নজরুল নামের এক ব্যাক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ হয় এই প্রতারক মেজরের সাথে। চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ওই পরিবারের নিকট থেকে ছয় লক্ষটাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক ভুয়া মেজর মাহামুদ হাসান।
র্যাব ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে থেকে জানাযায়, এই প্রতারক ভুয়া মেজর পরিচয়কারী আসলে একজন বই বিক্রেতা। তার মূল বাড়ি রাজশাহী জেলার বুয়ালীয়া থানার সুলতানবাদ গ্রামে। তিন সন্তানের জনক এই প্রতারক জীবিত স্ত্রীকে মৃত বলে ওই পরিবারকে বিশ্বাস করিয়েছিলো। সরল বিশ্বাস চাকুরী আর অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে গত ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখে ওই কিশোরীকে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়েও করে সে।
ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, আমি চাকুরীর জন্য দুইবার রাজশাহীতে সৈনিক পদে দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। গ্রামের একজনের মাধ্যমে এই লোকের সাথে পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে আমার চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিবেন বলেন। লোক মারফত চাকুরীর জন্য ছয় লক্ষ টাকা দাবি করে। প্রথম পর্যায়ে চেকের মাধ্যমে তাকে টাকা দেয়া হয়। কিন্তু চাকুরী না হওয়ার কারনে সেই চেক ফেরত দিয়ে নগদ ছয় লক্ষ টাকা নিয়ে যায় সে।
চাকুরীর সুবাদে আমাদের বাড়িতে তার যাতায়াত শুরু হয়। এক পর্যায়ে আমার বাবা মাকে বাবা মা ডেকে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমার পরিবার রাজী হয়ে যায়। সে বলেছিলো তার স্ত্রী মারা গেছে তিনটি সন্তান রয়েছে। বিয়ে রেজিস্ট্রি করা সময় পরিবার এবং এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তার মূল পরিচয় বেরিয়ে আসে। আমার জীবন নষ্টকারী প্রতারক ভুয়া মেজরের দৃষ্টন্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি আমি। আর কোন মেয়ে বা পরিবার কে যেনো এই ধরনরে প্রতারনা করার সাহস কেউ না পায়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পিতা সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমরা ভুল করেছি। প্রতারক ভুয়া মেজর আমার ও আমার পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমি এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। মেয়ের চাকুরী দেয়ার কথা বলে আমার বাড়িতে আসে সে। কথার ছলে পরে তার সাথে বিয়ে দেই। ভিটামাটি বন্ধক রেখে ৬ লক্ষটাকাও দিয়েছি তাকে। আমি এই প্রতারকের কঠিন শাস্তি চাই।
ঘটনার বিষয়ে পাবনা র্যাব-১২ এর দায়িত্বরত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কাশেম বলেন, পরিবার এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পাবনা সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর গ্রাম থেকে ওই প্রতারক ভুয়া মেজরকে আটক করা হয়েছে। এই ভুয়া মেজর আসলে একজন বই বিক্রতা। ঢাকা থেকে বই নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকে। তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার বুয়ালীয়া থানার সুলতানাবাদ গ্রামে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পক্রিয়া শেষে পুলিশের কাছে সপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি।
বার্তাবাজার/ডব্লিও.এস