“ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের দিকে চায়া রে” রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় এ ভাওয়াইয়া গানটি এক সময় মানুষের মন কেড়েছিল। মহিষের গাড়ি কিংবা গরুর গাড়িকে কেন্দ্র করে রচিত হয় এ গানটি। গানের নায়িকা তার গাড়িয়াল প্রেমিকের গাড়ির জন্য পথের পানে তাকিয়ে থাকতো। সেই কথায় জানান দিচ্ছে গানটিতে নায়িকা। সেই গান এখন শুধুই রেকর্ড মাত্র।
একটা সময় ছিল যখন গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়ি মানুষের একমাত্র যানবাহন। বিয়ে বাড়ি কিংবা নববধূ বাবার বাড়ি যাবে, মানুষ তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাসায় যাবে তখন মহিষের গাড়ি নিয়ে যেত। মহিষের গাড়ির চালকের আসনের পাশে থাকত মিষ্টি-মন্ডাসহ নানান খাবার। আগে-ভাগেই গাড়ি বুকিং করে রাখা হত পরে যদি না পাওয়া যায় এই ভয়ে। এ গাড়ির বিকল্প কিছু ভাবাই যেত না। মহিষের গাড়িতে কোথাও না গেলে অথবা তাতে কেউ না আসলে যেন সম্মান হানীর মত ঘটনা ঘটত।
কিন্তু কালের গর্ভে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে এই ঐতিহ্যবাহী যানবাহনটি। তেমন আর দেখা মেলেনা গ্রামের রাস্তা-ঘাটে। বর্তমানে এ গাড়িটি কোথাও দেখলে সেলফি না তুললেই যেন নয় এমন অবস্থা।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে মহিষের গাড়ি নিয়ে আনন্দ- স্মৃতির কোন ঘটনা বললে তাদের কাছে তা গল্পের মতো মনে হবে। কেননা এ গাড়ি নিয়ে রয়েছে তখনকার মানুষের নানা ইতিহাস-কিসসা-কাহিনী।
কথা হয় পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের মহিষের গাড়িয়াল রবিউলের সাথে। তিনি জানান, আমি প্রায় ৭ বছর ধরে মহিষের গাড়ি চালাই। আমি বর্তমানে আখ পরিবহন করছি আমার গাড়ি দিয়ে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এ ঐতিহ্যবাহী গাড়ির চালক হিসেবে। কেননা বাঙ্গালি জাতির অনেক ইতিহাস আছে এ গাড়িকে কেন্দ্র করে। আমি যতদিন পারি এ ঐতিহ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে যাব।
বার্তাবাজার/ডব্লিও.এস