যুদ্ধের শঙ্কা ইরাকে : মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশিদের নিয়ে ভাবছে সরকার

ইরাকে জেনারেল কাশেম সোলেইমানির হত্যাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ফের ইরাকে যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ইরাকে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশিকে নিয়ে ভাবছে সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার। কেননা অনেক বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে।’

তিনি বলেন, পরিস্থিতির বিপর্যয় হলে কীভাবে বাংলাদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায় ইতোমধ্যে সে পরিকল্পনা সরকার শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটা আমাদের সৃষ্ট নয়। তবুও এর ভুক্তভোগী আমাদের হতে হব’।

এর আগে লিবিয়াতে উদ্ভুত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত আনার উদাহরণ বাংলাদেশের রয়েছে। সে সময় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের ফেরত আনা হয়েছিল।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বাগদাদের বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। দূতাবাসও সেখানেকার অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক মিশনের পরিকল্পনা জানার চেষ্টা করছে।

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতির আপডেট নিয়মিতভাবে ঢাকাকে সরবরাহ করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হলে এবং বাংলাদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে দূতাবাস প্রস্তুত।

বাংলাদেশের দূতাবাসের পাঠানো বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী বাগদাদসহ পুরো ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা আর বোমা আতঙ্ক।

এমন অবস্থায় দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে কর্মরত ২ লাখের বেশি বাংলাদেশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশিদের সতর্ক করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসস্থান এবং কর্মস্থল থেকে তাদের বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে দূতাবাস। বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের রকেট হামলায় ইরানি স্পেশাল ফোর্স কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পরপরই দূতাবাস এই নির্দেশনা দেয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, ইরাকে বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। সকল ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা কনস্যুলার সার্ভিস খোলা রাখা হয়েছে। দূতাবোসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিজেদের চলাফেরা সীমিত রেখেছেন বলে জানানো হয়।

কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৫২টি স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিশানায় রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরান জেনারেল সোলেইমানি হত্যার জবাব যথাসময়ে, উপযুক্ত পরিবেশে সামরিক উপায়ে দেয়া হবে বলে পাল্টা হুমকি দিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরানের উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অশনিসংকেত পাচ্ছেন বলে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কুদস ফোর্সের এই প্রধান মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর রোববার রাতে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির শর্ত না মানার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়ারও অঙ্গীকার করেছে ইরান।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর