যে জজের সুপারিশে বদলে গেল সারাদেশের কারাবন্দীদের খাবারের ধরণ

সারাদেশের কারাবন্দীদের জন্য সকালের খাবারের মেন্যু পরিবর্তনে সাতক্ষীরা জেলার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের কথা এখন দেশব্যাপী সকলেই জ্ঞাত এবং একইসাথে তিনি তাঁর এই চমৎকার উদ্যোগের জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।

কিন্তু ২০১৭ সালের ১৭ মে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে থাকা কালীন মাগুরা জেলা কারাগারে তিনি যে সুপারিশ করেছিলেন তাতে দু’টি অংশ ছিল, প্রথমতো কারাবন্দীদের জন্য স্বাস্থ্যকর উন্নত খাবার প্রদান
দ্বিতীয়তো আদালতে হাজিরা দিতে আসা কারাবন্দীদের জন্য খাবার প্রদানের ব্যবস্থা করা।

আদালতে যেসব কারাবন্দীরা হাজিরা দিতে আসতো তারা প্রকারান্তরে দুপুরে কোন খাবারই পেত না। কারণ কারা কতৃপক্ষের হিসাব মতে তাদের সাথে চিড়া, গুড় দেয়া হতো আর কারাবন্দীদের বক্তব্য মতে তাদের না খেয়েই দিনটা কাটাতে হতো। মুলত বাস্তবতা হলো, যে কারাবন্দীর আত্মীয়-স্বজন সব ম্যানেজ করে খাবার সরবরাহ করতে পারতো তাদেরই দুপুরে খাবার জুটতো না হলে থাকতে হতো অভুক্ত অবস্থায়।

এই অমানবিক ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রস্তাবনা আকারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেন জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান, যার প্রথম অংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ আদালতে হাজিরা দিতে আসা সকল কারাবন্দীদের দুপুরের খাবারের জন্য আলাদা করে বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখের অফিস আদেশে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে চলতি বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে এখন আদালতগামী কারাবন্দীরা দুপুরের জন্য শুকনা খাবার (যেহেতু আদালতের হাজতখানা অন্য খাবার দেয়ার উপযোগী নয়) অর্থাৎ পাউরুটি, সিদ্ধ ডিম এবং কলা পাচ্ছেন, অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটানোর অমানবিক দিনের অবসান ঘটেছে।

তিনি যখন প্রথম এই উন্নত খাবার ও আদালতগামী কারাবন্দীদের জন্য খাবারের কথা তুলেছিলেন, তখন বাজেট স্বল্পতাসহ নানাবিধ সমস্যার কথা উঠেছিল কিন্তু এখন এই অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগের বাস্তবায়ন এটাই প্রমাণ করে যে, অর্থ স্বল্পতা নয় বরং আমাদের নতুন উদ্যোগ নেয়ার মতো উদ্যোমের স্বল্পতা রয়েছে যার জন্য অর্থ নয় বরং আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর