ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমকে মারতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্র। ওই ছাত্রের নাম আলমগীর হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সোমবার বেলা ১২টায় মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে ইবি থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা ১২টার দিকে অর্থনীতি বিভাগের করিডোরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার পরিচয় জানতে চান অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। এসময় ওই অভিযুক্তের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আত্মীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, তার কাছে এসেছি। পরে ওই কর্মকর্তার খোঁজ নেন তিনি, কিন্তু তার পরিচয়ে মিল পাননি তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই শিক্ষকের রুমে গিয়ে তাকে কিলঘুষি মেরে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে গণধোলাই দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ভবনের করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ সে আমার ওপর চড়াও হয় এবং কিলঘুষি মারতে থাকে। আমরা একাডেমিক কমিটির (বিভাগের) মিটিং করে প্রশাসনের কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।
এদিকে বহিরাগত এসে শিক্ষককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টায় মীর মশাররফ হোসেন ভবন থেকে মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয় তারা। এসময় ‘আমাদের শিক্ষক লাঞ্ছিত কেন-প্রশাসন জবাব চাই’ ক্যাম্পাসে বহিরাগত কেন-প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বহিরাগতদের কারণে ক্যাম্পাস দিন দিন অতিষ্ট হয়ে পড়ছে। বিকেলে ক্যাম্পাসে বের হলে তাদের কারণে চলাফেরা করাই দুষ্কর হয়ে পড়ে। বগিরাগতরা গাঁজা খাওয়ার জন্য ক্যাম্পাসকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গাঁজা খেতে পারে না।
তাদের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিত্যদিন বিভিন্ন ঘটনার শিকার হচ্ছে। আজকের এ ঘটনার তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। আমাদের দাবি, ভবিষ্যতে আর যেন কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে এরকম ঘটনা না ঘটে। এসময় এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, অভিযুক্ত আলমগীরকে ইবি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
বার্তাবাজার/এমকে