‘নুসরাত ছাড়া বিচার হয়নি ৪ হাজার নির্যাতিত নারীর’

২০১৮ সালে নারী শিশু বৃদ্ধাসহ ৩ হাজার ৯১৮টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে প্রায় ৪ হাজার নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে উল্লেখ করার মতো মাত্র নুসরাত হত্যার বিচার হয়েছে। বাকি একটিরও সুষ্ঠু বিচার কিংবা তদন্তের অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিতে হবে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়। তিনি বলেন, সামাজিক দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থ খরচের খাতও অবৈধ। নারীর প্রতি যারা নিপীড়ন নির্যাতন চালায় তারা কাপুরুষ।

তাদের রুখতে হলে সামাজিক দুর্নীতি রুখতে হবে। প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। ধর্ষণের বিচার চাইতে এসে কেন দুর্নীতির সামাজিক বিচার, আইনের শাসনের কথা বলছি? এর সাথে এসবের সংশ্লিষ্টতা আছে।

নারী নির্যাতনের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যে হারে নারী নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে তাতে আমরা শঙ্কিত। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এসব ঘটনা বাড়ছে। নারী নির্যাতনের বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা গেলে এর আইনগত প্রতিকার কিছুটা হলেও মিলবে।

তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার নারী কেন প্রমাণ করবে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ধর্ষক নন। আমরা এই সংস্কৃতির বিচার চাই।

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ঢাবি পরিবারের সদস্য হিসেবে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়িত সবার জন্য ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা লজ্জার। এ ঘটনা মেনে নেয়া যায় না, হতে পারে না। সামনে নারী নির্যাতনের বিচার যদি না পাই তাহলে ভবিষ্যতে আমার ওপর নির্যাতন কিংবা কোনো নারীর ওপর নির্যাতনের বিচারও পাব না।

দেশের যে সামাজিক বলয় তাতে নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের নেত্রী রেখা চৌধুরী বলেন, দেশে এখন রজতজয়ন্তী পালনের তোড়জোড় চলছে। এমন সময় ঐতিহ্যের ক্যাম্পাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হলেন। ক্রমাগত নারী নির্যাতন বেড়েই চলছে।

এ কারণ বিচারহীনতা। আমরা তনু হত্যার বিচার পাইনি, সাগর-রুনি হত্যার বিচার পাইনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর ইনিশিয়েটিভের কারণে হয়তো দ্রুতই আমরা নুসরাত হত্যার বিচার পেয়েছি।

ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাহানা বলেন, স্বাধীন দেশে নারীও স্বাধীনভাবে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রে যে উন্নয়নের জোয়ার সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে, কিন্তু নারীর প্রতি যে সহিংসতা তা বন্ধ করা যায়নি। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা দরকার তা কিন্তু এই রাষ্ট্র ও সমাজ দিতে পারেনি।

ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুয়েলা জেবননেসা খান বলেন, সব সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রচলিত যে আইন তাতে ধর্ষককে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা যায় না। ধর্ষণকারীকে চিহ্নিত করতে হবে। আপদকালীন ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানসিক ক্রাইসিসে থাকা মেয়েটির সুচিকিৎসা ও সুষ্ঠু পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন করলেই হবে না। ১৮০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ দ্রুত বিচার আইনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকবে মহিলা পরিষদ।

মানববন্ধনে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর শাইখ ইমতিয়াজ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী সুয়িলা সাফারা, লিগ্যাল অ্যাডভোকেসির পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকসুদ আক্তার, জনা গোস্বামী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর