২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন ডাইনো পার্ক

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন  ডাইনো পার্ক

সাগর, পাহাড়, বন-জঙ্গল, ঝরনা—ইতোমধ্যে যাদের সবই দেখা শেষ; তারাভাবছেন, এবার ঈদের ছুটিতে কোথায়ঘুরতে যাবেন। চিন্তা নেই, প্রিয়জনদের নিয়েঘুর আসতে পারেন ডাইনো পার্ক থেকে।রাজধানী থেকে কাছের শহর; কুমিল্লায় এডায়নো পার্কের অবস্থান। খুব বেশি সময়লাগবেনা ঘন্টা খানেকের পথ।

নতুন এ বিনোদনকেন্দ্রের নাম ডাইনোসরপার্ক যা ডাইনো পার্ক নামে সারা দেশেপরিচিতি পেয়েছে। ঢাকার অদূরে কুমিল্লারলালমাই পাহাড়ের ১২ একর জায়গা নিয়েপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুন ধরনের একটি পার্ক।ঝোপ-জঙ্গলে ঘেরা এই পার্কে ঢুকে পিলেচমকে যেতে পারে। এখানে হাজার বছরআগে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীর দেখা মিলবে!যারা বেড়াতে ভালোবাসেন আররোমাঞ্চকর অনুভুতির সারথী হতে চানতাদের জন্যে এ পার্কটি স্বপের জায়গা হতেপারে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা। পার্কেচীন থেকে আনা পাঁচটি কৃত্রিম ডাইনোসররাখা হয়েছে। সুইচ টিপলেই যারা গর্জনকরে, লেজ নাড়ে আর চোখ ঘুরায়।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মকেবিলুপ্ত ডাইনোসরের সম্পর্কে ধারণা দিতেইএ উদ্যোগ। সারা দেশ বিশেষ করে কুমিল্লাও আশপাশের জেলার লোকজনকে নির্মলআনন্দ দেওয়ার জন্য মাশফিকা হোল্ডিংসলিমিটেড এই পার্ক তৈরি করেছে। ব্যক্তিগতউদ্যোগে এক পরিবারের চার ভাই ও তাঁদেরবাবা এর উদ্যোক্তা। পার্কে প্রবেশপথেহেরিটেজের মতো তিনতলা ভবন রয়েছে।দিনের চেয়ে রাতের বেলায় এ পার্ককেআরও আকর্ষণীয় মনে হয়। কেবলডাইনোসর দেখা নয়, এখানে রয়েছে বিভিন্নধরনের রাইড।

সমতল ভূমি থেকে ৪৫ ফুট ওপরে অবস্থিতএ পার্ক । তারও ওপরে রয়েছে প্যারিজহুইল, যা আই অব লালমাই নামে পরিচিত।ওই রাইড থেকে ১০০ ফুট ওপরে লালমাইপাহাড়ের মনভোলানো রূপ দেখা যায়।ডাইনোসর দেখার পর দক্ষিণ দিকেরটিলায় ওঠার জন্য ৪০টি সিঁড়ি বেয়ে উঠতেহবে।

বেড়ানোর ফাঁকে খাওয়ার জন্য এখানেরয়েছে দ্য হিল ক্যাফে রেস্টুরেন্ট। বাঁশেরমাচার ওপর তৈরি ওই হোটেলে খেতে বসেপ্রকৃতি দেখতে পারবেন। রোস্তোরাঁর একপাশে আছে দ্য ডেক সাইড। যেখানেএকসঙ্গে ১৩৫ জন বসতে পারে।

আই অব লালমাইতে ১২টি বগি রয়েছে।যাতে ২৪ জন একসঙ্গে বসতে পারবে।অক্টোপাসে একসঙ্গে বসতে পারে ১৫ জন,মেরি গো রাউন্ডে ২৪ জন, সেলফ কন্ট্রোলপ্লেনে ৮ জন, বাম্পার কারে ১০ জন এবংড্রাগন কোস্টারে ২০ জন। শিশুদের জন্যআছে ১৩টি রাইড।

পার্কের বিষয়ে জানান ব্যবস্থাপনাপরিচালক এ এইচ এম আমিনুল ইসলামভূঁইয়া। তিনি বলেন, চীনে ঘুরতে গিয়েডাইনোসর জাদুঘর দেখি। সেই ধারণাকাজে লাগিয়ে কুমিল্লায় দুই বছর ধরে একাজ করেছি। চীন থেকে লোক এনে এইরাইড ও ডাইনোসর বসানো হয়েছে। এটিআমাদের পারিবারিক উদ্যোগ।’

তিনি আরো বলেন, আমরা ঐতিহাসিকপ্রেক্ষাপট বিবেচনা করে লালমাইতে পার্কটিস্থাপন করি ।গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরথেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনোদনকেন্দ্রটিযাত্রা শুরু করে।

এখানে বেড়াতে আসা লোকদের সঙ্গে কথাবলে জানা গেছে, ডাইনো পার্কে এসেআশপাশের শালবন বৌদ্ধবিহার, ময়নামতিজাদুঘর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়,বোটানিক্যাল গার্ডেন, বৌদ্ধ সভ্যতা নিদর্শনদেখা যায়।

প্রবেশ মূল্য:
পার্কে প্রবেশমূল্য ২০০ টাকা। এছাড়াবড়দের জন্য রাইডের ফি ১০০ টাকা,ছোটদের জন্য ৫০ টাকা। সেই সঙ্গেযেকোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই এখানেপিকনিক কিংবা কর্মশালার আয়োজনকরতে পারে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকেবিকেল ৫টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকবে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলারসদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলি অথবানন্দনপুর এলাকা দিয়ে কুমিল্লাবিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পার হয়ে কিছুটাসামনে গেলেই ডাইনো পার্ক। এ ছাড়াকুমিল্লা শহর থেকে ২২০ টাকায়সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেওযাওয়া যায়। দল বেঁধে কিংবা ভেঙে ভেঙেগেলে কোটবাড়ি থেকেও কম ভাড়ায়যাওয়া যায়।