শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের হাসপাতাল গুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের গরম কাপড় পরার ও খাবার দাবারে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ তাদের।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে গেলে শিশু রেজিস্ট্রার বিভাগের ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, শীতের প্রকোপসহ বিভিন্ন কারণে ডায়রিয়া, নিমোউনিয়া, হাঁপানি, জ্বর, সর্দিকাশি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে।
গত ৩ দিনে জেনারেল হাসপাতালে শতাধিক ডায়রিয়া, হাঁপানি ও নিমোউনিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও নবজাতক রোগীর সংখ্যা বেশি। এদিকে জেলার সবকয়টি উপজেলা হাসপাতালে ওইসব রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিমোউনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু ও নবজাতক রোগীর সংখ্যাই বেশি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা অনেকেই শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকেও ভর্তি হচ্ছে। বেশীর ভাগ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় ঔষধের পাশাপাশি কিছু সময় পর পর দুই মাসের কম বয়সীদের অক্সিজেন ও বেশি বয়সীদের নেবুলাইজার দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। এসব শিশু বুকের দুধ খেতেও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানায় অভিভাবকরা। এক অভিভাবক বলেন, ২০-২১ দিন ধরে আমার বাচ্চা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়া শীতকালীন ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। অসুস্থতা আশংকাজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়েই হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শীতসহ বিভিন্ন কারণে এসব রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বার্তাবাজার/এইচ.আর