দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। যদিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল বা এলপিজির দাম বাড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে ইতোমধ্যেই লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও এলপিজির পুরোটাই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি করা জ্বালানির দাম নির্ধারিত হয় মূলত জাহাজে তেল লোড করার পর যে দামে বিপিসির কাছ থেকে বিল নেওয়া হবে সেটার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি এলপিজির মালিকরা এখন থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা ও অপারেশন) মো. সারওয়ার আলম বলেন তেলের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। আমরা বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২০০ দিনই তেল কিনে থাকি। যদি ব্যারেল প্রতি ১০-১৫ ডলারও বাড়ে তবুও দেশে দাম বাড়ানোর দরকার হবে না। এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, বেসরকারি মালিকরা হয়তো বাড়িয়েছেন। তবে দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

গত ৩ জানুয়ারি ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের আল কুদসের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এর অজুহাতে বাংলাদেশেও এলপিজির দাম বেড়ে গেছে। যদিও এগুলো বর্ধিত দামে আমদানি করা নয়।

বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট বিরাজমান, এ অবস্থায় তেলের দাম আমাদের দেশে বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। যদি কেউ সরকারের অনুমোদিত ছাড়া বাড়তি দামে খুচরা বাজারে তেল বিক্রি করার চেষ্টা করে তবে সে সুযোগসন্ধানী। ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ে-কমে। সে ক্ষেত্রে এখন যদি তেলের দাম বেড়েও যায় সেই তেল দেশে আসতে অন্তত মাসখানেক সময় লাগবে।

তখন বিপিসি হিসাব করে দেখবে দাম বাড়ানো দরকার আছে কিনা। পাইপলাইনে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষ এলপিজি গ্যাস (সিলিন্ডার) ব্যবহার করছেন। এতদিন ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯০০ টাকা। সেটি গত শনিবার থেকে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকায়। জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, এলপিজির বাজার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

এখানে এত বড় বড় ব্যবসায়ী জড়িত যে, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অনেকদিন ধরে চেষ্টা করেও এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এলপিজির দাম বৃদ্ধি নিয়ে যমুনা এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলায়েত হোসেন গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার থেকে এলপিজি কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক ১৫ লাখ টনের বেশি এলপিজির চাহিদা রয়েছে দেশে। তবে আমদানি ও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টন এলপিজি। এর মধ্যে সরকারি কোম্পানি মাত্র ২০ হাজার টন এলপিজি বিক্রি বা সরবরাহ করে। গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর পুরোটাই আসে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ থেকে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর