বিদ্রোহী চাপে আ.লীগ-বিএনপি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ এবং সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একক প্রার্থী সমর্থন দিয়েছে। এর পরও দলগুলোর নেতাদের অনেকেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ফলে অধিকাংশ ওয়ার্ডে উভয় দলই বিদ্রোহীদের চাপে আছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত বৈধ প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। দুই সিটিতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আড়াই শতাধিক। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী একশর কাছাকাছি।

বিএনপি নেতারা জানান, দক্ষিণের চেয়ে উত্তরে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি। উত্তরের প্রায় সব ওয়ার্ডে বিদ্রোহী আছেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বিএনপি অন্তত ৬টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ অবস্থায় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আজ সোমবার বৈঠক করে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। নেতাদের দাবি, বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে কোন্দলের কারণে

দক্ষিণে ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং উত্তরে ৫, ৩৪, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। দক্ষিণ সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল মোতালেব রুবেল ও আশরাফুল ইসলাম মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা এমএ হান্নান, জাহিদ হোসেন নওয়াব ও রফিকুল ইসলাম স্বপন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্রোহীদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আওয়ামী লীগে। শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থিতায় থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যাদের নাম এসেছে, তাদের অনেকেও প্রার্থী হয়েছেন। তবে সবাই দলের সমর্থন পাননি। দক্ষিণে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম আশরাফ তালুকদার ক্যাসিনোকা-ে অভিযুক্ত হওয়ার পরও সমর্থন পেয়েছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ক্যাসিনো সাঈদ’ হিসেবে পরিচিত মমিনুল হক সাঈদ এবং তার স্ত্রী ফারহানা আহমেদ বৈশাখী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ক্যাসিনোকা-ে তাকে দল ও কাউন্সিলর পদ থেকে বহিষ্কার করেছিল আওয়ামী লীগ।

সেখানে এবার আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে মোজাম্মেল হককে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের আনিসুর রহমান আনিস, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আশরাফুজ্জামান ফরিদের মতো বিতর্কিতরা দলীয় সমর্থন পেয়েছেন। অবশ্য ক্যাসিনোকা-ে বিতর্কিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলোচিত নেতা মোস্তবা জামান পপি দলীয় সমর্থন পাননি।

উত্তর সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হাশেম হাসু, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফরিদুর রহমান ইরানের মতো বিতর্কিতরা দলীয় সমর্থন পেয়েছেন। আলোচিত যুবলীগ নেতা বাপ্পি চৌধুরী ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপিতে বিতর্কিত প্রার্থী সেভাবে নেই। দলীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন না এমন অনেকে মনোয়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতবার নির্বাচিত হয়েছেন এমন প্রার্থীকেও এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে দলে সমালোচনা হচ্ছে।

উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির টিম লিডার আমির হোসেন আমু বলেন, বর্তমানে অনেক প্রার্থী আছেনÑ এটি সত্য। তবে ঠিক সময়ে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে দলের মনোনীত প্রার্থীর জন্য তারা কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিদ্রোহী প্রার্থীদের বোঝানো জন্য ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা ওয়ার্ডের নেতাদের ইতোমধ্যে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত একজন বিদ্রোহী প্রার্থীও থাকবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিনে আমরা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছি। এ কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত জানতে না পেরে অনেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাই কিছু বিদ্রোহী আছে। তবে সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আমাদের কথা দিয়েছেন। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

ঢাকা দক্ষিণে বিদ্রোহী দেড় শতাধিক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ৬৮টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দেড় শতাধিক। এর মধ্যে অন্তত ১২টি ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী তিন থেকে পাঁচজন। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন বঞ্চিত বর্তমান কাউন্সিলররাও প্রার্থী হয়েছেন। দক্ষিণে এমন কাউন্সিলর রয়েছেন অন্তত সাতজন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম। এই ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জুয়েলসহ আরও কয়েকজন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুর রহমান আনিস। এই ওয়ার্ডে আরও দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

৩ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মাকছুদ হোসেন। এ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মো. আশ্রাফুজ্জামান। সেখানে সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাসসহ আরও তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত আলোচিত কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এ ওয়ার্ডে দলের সমর্থন মনোনয়ন পেয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। প্রার্থী হয়েছেন মমিনুল হক সাঈদের স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীও। এ ছাড়া এ ওয়ার্ডে আরও রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম, বাহালুল আলম, আবদুল কাদের। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ওয়ার্ডে শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম আতিকুর রহমান ছাড়াও আরও দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীবাগ বাংলামোটর নিয়ে গঠিত ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ। এ ওয়ার্ডে আরও অন্তত চারজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর ও শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ হামিদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. মোশারফ হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা এসএম এনামুল হক ও মো. আলমগীরও মাঠে রয়েছেন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান মানিক। ওয়ার্ডটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরেরর সাবেক সহসভাপতি হাসিব উদ্দিন রসি।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ড. ওমর বিন আবদাল আজিজ তামিম। তিনি বর্তমান কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ. লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক। এ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাগর আহমেদ শাহীনসহ আরও দুজন। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আবদুর রহমান মিয়াজি। তবে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিনসহ আরও একজন।

৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফীর ছেলে আহমদ ইমতিয়াজ মন্নাফী। ফলে এখানে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রোকন উদ্দিন আহমেদ। এখানে অন্তত ছয়জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

৪০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন গে-ারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর, যুবলীগ নেতা মুহাম্মদ আলিফ হোসেন ও সারোয়ার উদ্দিন আহম্মেদ মিঠু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম।

বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কবির উদ্দিন আহমেদ ও মাহাবুব সালাহউদ্দিন উজ্জ্বল। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে আ. লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মাসুম মোল্লা। এ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন স্বাধীন। ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাসু।

এ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবু, আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান তোতা, যুবলীগ নেতা সালাউদ্দিন। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর সৈয়দ মো. তোফাজ্জল হোসেন। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উত্তরে আ. লীগে বিদ্রোহী শতাধিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০ জন বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এখনো নির্বাচনে রয়েছেন। দলীয় সমর্থন না পাওয়া আওয়ামী লীগের ১০ জন কাউন্সিলর হলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জহিরুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রজ্জব হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী টিপু সুলতান, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ইকবাল হোসেন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে হুমায়ুন রশীদ, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মো. নাছির, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোস্তাক আহমেদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ মুজিবুর রহমান, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক আহমেদ এবং ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদুর রহমান দেওয়ান।

তবে প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায় গতবারের তুলনায় এ বছরের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কম। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এবার ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।

ডিএনসিসির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুরাদ হোসেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। তিনি মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। স্থানীয় ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মঞ্জুর। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন।

এর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর শেখ মজিবুর রহমানসহ ছয়জন আওয়ামী লীগের বিদ্রেহী প্রার্থী। ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বৈধ প্রার্থী সাতজন। এই ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী আলিয়ার রহমান, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর আলীসহ আরও তিনজন।

৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আবুল কাশেম। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু সুলতান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান শেখ ও যুগ্ম সম্পাদক আনিছুর রহমান। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মইজউদ্দিন। এখানে বিদ্রোহী আছেন দুজন। বর্তমান কাউন্সিলর হুমায়ুন রশিদ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক ভূঁইয়া।

৪১ নম্বর ওয়ার্ডে শুরুতে দলের সমর্থন পেয়েছিলেন সাতারকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মতিন। পরে বর্তমান কাউন্সিলর সফিকুল ইসলামকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়। আবদুল মতিন বৈধ প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে রয়ে গেছেন। ডিএনসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কদম আলী। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন।

৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম। এর বাইরে এখানে প্রার্থী হিসেবে আছেন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মাসুদ খান, আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দীন খান ও আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ হোসেন। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফাহিম সাদেক খান। তিনি ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান সাংসদ ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের ছেলে।

ডিএনসিসির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন সালাউদ্দিন রবিন। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বর্তমান কাউন্সিলর হাজী রজ্জব হোসেন ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ওরফে বাপ্পী চৌধুরীও রয়েছেন।

দক্ষিণে বিএনপির বিদ্রোহী যারা

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজী ফারুক। তিনি গেন্ডারিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। সেখানে গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনির সম্পাদক ডালী মামুনুর রশীদ অপু ও ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সোহেলও প্রার্থী হয়েছেন। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দল সমর্থন দিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদকে।

বিএনপির সমর্থন না পেলেও এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন মতিঝিল থানা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। ১৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলটির সমর্থন পেয়েছেন থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক উদ্দিন ভূঁইয়া। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থানা বিএনপির সহসভাপতি আবু নাছের লিটন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

১ নং ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হুমায়ুন কবির, জামাল উদ্দিন জামান। ৪ নং ওয়ার্ডে মো. মোরসালিন ও হারুনুর রশীদ, ৯ নং ওয়ার্ডে আহাম্মদ আলী ও মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন, ৫১ নং এ কবির আহমেদ, ৫২ নং এ বাদল রানা, ১৮ নং জোবায়ের এজাজসহ আরও অনেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

উত্তরের বিদ্রোহী

দক্ষিণের মতো উত্তরেও অনেক ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম মোস্তফা মাস্টার, ৩নং ওয়ার্ডে আমান উল্লাহ আমান, জামাল হোসেন, ৪ নম্বর এ সাব্বির দেওয়ান জনি, ৫ নম্বর বুলবুল মল্লিক, আশরাফ আলী গাজী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমজাদ হোসেন মোল্লাহ, হাবিবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম রাব্বানী, রাসেল চৌধুরী, ৮ নম্বর সোলাইমান খান দেওয়ান, সৈয়দ মোস্তফা কায়সার, ৯ নম্বর ইমরান হোসেন, ১০ নম্বর সাফায়েত রাব্বী আরাফাত, ১২ নম্বর মুন্সি জাকির হোসেন, ১৩ নম্বর শাকিল মোল্লা, ১৪ নম্বর আহসান উল্লাহ হাসান, শরিফুল ইসলাম মিলন, ১৫ নম্বর ইসমাইল হোসেন বকুল, জিন্নাত আলী, ১৬ নম্বর সৈয়দ একরাম হোসেন, ১৮ নম্বর ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবদুল লতিফ, শফিকুল ইসলাম শাহীন, ১৯ নম্বর অহিদুজ্জামান বাবুল, ২০ নম্বর সেলিম আহমেদ রাজু, ২৩ নম্বর কামাল আহমেদ দুলু, আবুল মেসেরসহ বিদ্রোহী প্রার্থী অনেক।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ সিটিতে কাউন্সিলর পদে সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ জন। এছাড়া ৪৮ নম্বর ওয়াডে ১২ জন, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ জন, ১০ জন করে প্রার্থী রয়েছে ৬৭, ৫২ ওয়ার্ডে। ৯ জন প্রার্থী রয়েছে ৭, ২৮, ৪৬, ৫৯ ওয়ার্ডে। ৬ থেকে ৮ জন প্রার্থী রয়েছে ৩৬ ওয়ার্ডে। এছাড়া দক্ষিণের সংরক্ষিত ২৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ২২ নং ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে ১১ জন। এ ছাড়া ৬ জন রয়েছে ১৭, ১৮ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে, ৪ থেকে ৫ জন প্রার্থী রয়েছে ১০ ওয়ার্ডে। উত্তর সিটিতে কাউন্সিলর পদে সর্বনি¤œ ২ জন করে চারটি ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন। আর সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছেন ১৪ জন। এসব ওয়ার্ডে দুই দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর