চাঁদপুরে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অপু হিসেবে যেভাবে পরিচিত হলেন অপু কুমার বিশ্বাস।পাঠক আড্ডায় সেটিই আজ তুলে ধরা। বলা যায় অদর্শ আর ত্যাগের জন্য পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির অন্যতম উদাহরণ অপু কুমার বিশ্বাস।
যিনি ষোলঘর বিটি রোডের রতন কুমার বিশ্বাস ও স্বরস্বতী রানীর ২ ছেলে ও ১ মেয়ের সংসারে মেঝো ছেলে।ওই এলাকাতেই তখন থাকতো ছাত্ররাজনীতির আরেক উদাহরণ বর্তমান সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. হুমায়ন কবির সুমন।
তিনি তখন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে ক্যান্ডিডেট হিসেবে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর আলোচনায়।সময় টা তখন ২০০৪ সাল যখন বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে অনেকটা হাক-ডাক দিয়েই রাজপথে সুমন।আর সুমনের ওই সময়ের বিরোধী দলীয় কর্মকান্ড ও জয় বাংলা স্লোগান মনকারে ছোট্ট অপু কুমার বিশ্বাসের।সুমনের পিছন পিছন রাজপথে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিতে সব সময় দৌড়-ঝাপ রাখতো সে।
যা অবশ্য নজরকারে হুমায়ন কবীর সুমনের।সুমনের অবশ্য বুজতে তখন খুব বেশী দেড়ি হয়নি অপুকে ছাত্রলীগে কতটা প্রয়োজন! অবশ্য অপুও মনে প্রাণে হুমায়ন কবির সুমনের সাথে সমান তালে রাজপথে মিছিল মিটিংয়ে আসতে শুরু করে।পাঠককে জানাতে চাই,অপুু কুমার বিশ্বাসের বাড়ির অনেকটা কাছাকাছি ছিলো ট্যাকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ।
যেখানে ২০০৫ সালে অপু তখন ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।সুমন তখন অপুকে নির্দেশ দেয় ওই স্কুলে ছাত্রলীগের অবস্থান তৈরি করতে হবে।অপুও তখন সুমনের ওই কথায় রাজি হয়ে গেলো।যেই কথা সেই কাজ আর সুমনের সার্বিক দিক-নির্দেশনা একদল তরুন মেধাবীদের নিয়ে স্কুলটিতে ছাত্রলীগের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয় অপু কুমার বিশ্বাস।আর অপু কুমারের ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এই সফলতাই তাকে ছাত্রলীগের অপু হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম বলে দাবী অনেকের।
শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কর্মী হয়েই অপু কুমারের এই পরিশ্রম।যাকে আরো দৃঢ় করতে পরবর্তীতে অপুকে আনা হয় পৌর ছাত্রলীগের অন্তর্গত ১৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য পদে।এরপর এই পদ নিয়ে উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের পরামর্শে ২০০৮ সালে নৌকার মিছিলে ছাত্রলীগের হয়ে অনেকটা নেতৃত্বশালী অবস্থান নিতে শুরু করে অপু কুমার।দলীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নির্বাচনে নৌকার বিজয় হয় আর অপুও তখন কলেজে অধ্যয়নরত।তবে পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্রলীগের আদর্শ ও রাজনীতির ভীত যেন আরো শক্তিশালী হয় অপুর।
সখ্যতা গড়ে উঠে বর্তমান ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাড জাহিদুল ইসলাম রোমানের সাথে।যার স্নেহে ২০১২ সালে যখন চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসে।তখন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতাউর রহমান পারভেজের মাধ্যমে কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পায় অপু কুমার বিশ্বাস।পাঠক কে বলে রাখি-অবশ্য তখন ছাত্রলীগের মাধ্যমেই ছাত্রদের হাতে দেখা যায় কলম আর বন্ধ হয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নিষিদ্ধ অস্ত্রের ঝনঝনানী।
২০১৪ সালে চাঁদপুরে গণ-জাগরণ মঞ্চ তৈরিতেও ছাত্রলীগের এই অপু কুমার বিশ্বাস সহ একদল সহযোদ্ধা ছাত্রলীগ কর্মীদের ছিলো অসামান্য অবদান।যেখান থেকে কাদের মোল্লা,নিজামীদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবী তুলা হতো।এ সময়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র অনেকটা স্নেহের জায়গা নিয়ে নিতে সক্ষম হয় এই অপু কুমার বিশ্বাস।সে সনাতনধর্মালম্বি এবং পারিবারিকভাবে তেমন কেউ রাজনীতির সঙ্গী না থাকলেও দীপু মনির মতো সজ্জ্বন অসাম্প্রদায়িক ব্যাক্তিত্বের কাছে সে নিজের চেষ্টাতেই স্নেহের স্থলে পৌঁছায়।কেননা বাঙ্গালী মনা একজন অন্যতম ব্যাক্তিত্ব যে দীপু মনি।
তার কাছে ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্রের উর্দ্ধে মানুষ এবং বাঙ্গালী।যদিও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আগেই জানিয়েছেন ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র মতো অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বরা আছেন বলেই হয়তো চাঁদপুরে সনাতনধর্মালম্বি অপু কুমার বিশ্বাসেরা পুরোদমে রাজনীতির মাঠে এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে পাঠকের জন্য ভবিষ্যতে জেলা ছাত্রলীগ নিয়ে ভাবনা প্রসঙ্গে কথা বলতে হয় ছাত্রলীগের অপু কুমার বিশ্বাসের সাথে।৫ জানুয়ারি রবিবার পাঠকের উদ্দেশ্যে অপু কুমার বিশ্বাস জানান,চাঁদপুর সরকারি কলেজ হতে বাংলায় অনার্স শেষ করার পর এখন আমি ‘ল’ পড়ছি।এরমধ্যে ছাত্রলীগ করার সুবাদে দীপু আপার মতো একজন অনুকরনীয় আলোকিত মানুষ পেয়েছি।অ্যাড. জাহিদুল জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাইয়ের সহযোগিতাতেই দীপু আপাকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি।
তাই চাঁদপুর ছাত্রলীগে দীপু আপা আমার অভিভাবক হিসেবে আমার জন্য যে নির্দেশনা রাখবেন।আমি সেই নির্দেশনাকেই আমার সিদ্ধান্ত হিসেবে জানিয়ে সামনে এগুবো।তবে অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাইদের সময়ে ছাত্রলীগ যেই আদর্শে চলেছে।সেই আদর্শের ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগকে ফিরিয়ে আনাই হবে আমার ছাত্রলীগ করার স্বার্থকতা।আমার জন্য সবার আশির্বাদ চাই।
বার্তাবাজার/এমকে