কলাপাড়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপর্যস্ত নদ-নদী ও বনাবনাঞ্চল

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলে অসংখ্য প্লাষ্টিক বর্জ্য তীরে ভেসে এসে মাটির সাথে মিসে যাচ্ছে । প্লাস্টিক বর্জ্য জোয়ার ভাটার সঙ্গে ভেসে আটকে যাচ্ছে নদ-নদী এবং সমুদ্র তীরে। ফলে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো সবুজ দেয়াল খ্যাত ম্যানগ্রোফ বন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কয়েক দিন আগে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে সামাজাকি যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন। অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

শাহিন তার ভিডিওতে উল্লেখ করেন,মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। জেলে এবং পার্শ্ববর্তী বসবাসকারী যারা রয়েছেন তারা এসব পানির বোতলসহ জেলেদের বিভিন্ন সরঞ্জাম পানিতে ফেলছেন। ফলে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে নষ্ট হচ্ছে। এ দেশ আমাদের, আগামী প্রজন্মকে আমরাই হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি। অমাদের এই পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। প্রাকৃতিভাবে জন্মানো এই বনা ল সবুজ দেয়াল বিভিন্ন জলোচ্ছাস ও দূর্যোগের সময় বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে এ উপকূলকে রক্ষা করছে। তিনি চ্যানেলের তীরে বনা লের মধ্যে ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ওইসব প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো কুড়িয়ে আগুন দিয়ে ধংস করে দেয়। তিনি জেলে সহ সাধারন মানুষকে সচেতন করতে এ ভিডিওটি আপলোড করেছেন বলে জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়’র প্রানীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড.মো.কামরুজ্জামান জানান, পানির মধ্যে উদ্ভিদ কনা ও প্রানী কনা থাকে। যা খালি চোখে দেয়া যায়না। সাধারনত উদ্ভিদকূল, জলজ প্রানী, দ্বীপ অ লের প্রানীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

বার্তাবাজার/এইচ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর