চাঁদপুর জেলায় প্রাথমিকের ৫ শতাধিক স্কুলেই নেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার উপযুক্ত মাঠ।যে কারনে শিক্ষার ১ম ধাপ থেকেই কোমলমতি শিশুরা মেধা বিকাশে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।এতে তারা বিদ্যালয়ের চার দেয়ালের বন্ধীখানায় ঘরকুনো ব্যাঙয়ের মতো আটকে পড়ছে।অনুসন্ধানে জানা যায়,জেলার ১ হাজার ১’শ ৫৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
যার মধ্যে চাঁদপুর সদরের ১’শ ৪৭টি,কচুয়ার ২০টি,হাজীগঞ্জের ৬২টি,হাইমচরের ৬২টি,শাহারাস্থির ২৭,ফরিদগঞ্জের ৯৮টি,মতলব দক্ষিণের ১৬টি এবং মতলব উত্তরের ৭৬ টি সহ মোট ৫’শ ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নেই খেলার উপযোগী কোন মাঠ।চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী শ্রীধাম চন্দ্র ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর নির্মিত হয়।
কিন্তু দেখা যায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধি সহ নানাবিধ কারনে ওই স্কুলে এক পর্যায়ে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হয়।যেজন্য খেলার মাঠ দখল করেই নতুন ভবন নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে।তাই প্রাথমিকের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই খেলার পর্যাপ্ত মাঠ নেই।তিনি আরো জানান,চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের প্রাথমিকের স্কুলগুলোতে খেলার মাঠ নেই বললেই চলে।
তার দেওয়া এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,জেলার মোট ১ হাজার ১’শ ৫৬ বিদ্যালয়ের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১’শ ৭২ টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে মাত্র ২৫ টি তে এবং হাইমচরে ৭২ টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে মাত্র ১০টিতে।এ ছাড়া কচুয়ায় ১’শ ৭১ টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে ১’শ ৫১টিতে,হাজীগঞ্জের ১’শ ৫৭ স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে ৯৫ টি তে,শাহারাস্থির ১’শ ১টি স্কুলের মধ্যে ৭৪ টি তে,ফরিদগঞ্জের ১’শ ৯০টি স্কুলের মধ্যে ৯২টি তে,মতলব উত্তরের ১’শ ১৩ টি স্কুলের মধ্যে ৯৭টি তে এবং মতলব দক্ষিণের ১’শ ৮০ স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে মাত্র ১’শ ৪টি সহ মোট ৬’শ ৪৮ টিতে।
এ দিকে অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,রেজিষ্ট্রেশনের সময় জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলগুলো কাগজে কলমে ৩৩ শতাংশ জায়গা দেখাচ্ছে।তবে বাস্তবে ওই সব অনেক স্কুলেরই জায়গা রয়েছে মাত্র ১০/১৫ শতাংশ।অথচ ওইসব জাল জালিয়াতির চক্করে পরে একশ্রেণী ফায়দা লুটলেও মেধা ও শারীরিক বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।তারা স্কুলের টিফিট আওয়ার এমনকি স্কুলের ক্রিড়া উৎসবের অনেক আয়োজন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এতে তারা বদ্ধ দেয়ালের বন্ধীশালায় শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা অর্জন করতে বাধ্য হচ্ছে।অথছ প্রাথমিক স্কুলগুলোর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও ক্রীড়া বিকাশ নিশ্চিত করা।৫ জানুয়ারি রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাব উদ্দিন।তিনি জানান,প্রাথমিক স্কুলে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে মাষ্টার প্লান করে কাজ করা শুরু হয়েছে।যেসব স্কুলে খেলার মাঠ নেই তা সম্ভবত ২০০৬ এর আগের।
কারন ২০০৬ সালের পর হতে স্কুলের জমি নির্ধারণে আমরা ক্রচ-ম্যাচিং কার্যক্রম শুরু করেছি।তাই বাস্তবে যেসব স্কুলের জমি নেই তা এখন বেরিয়ে আসছে।তিনি আরো জানান,শিশুদের জন্য স্কুলের খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে সরকার বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।অর্থাৎ এখন থেকে শহরের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ হলে ৬ তলা এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ হলে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে নিয়ম করা হয়েছে।
এদিকে জেলায় প্রাথমিকে মোটের উপর প্রায় অর্ধেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই খেলার মাঠ না থাকায় ক্ষোব ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।তাই এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সুনজর দাবী করেছেন সচেতন অভিভাবক মহল।
বার্তাবাজার/এইচ.আর