বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ‘নিউ পারভিন-২’ জাহাজ’র উদ্ধার কাজ শুরু

বঙ্গোপসাগরের মেহেরআলীর চর এলাকায় ডুবে যাওয়া ‘নিউ পারভিন-২’ নামে সার বোঝাই কার্গো জাহাজের উদ্ধার কাজ শুরু করেছে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান। শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে জাহাজটির উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ভাটার সময় নদীর পানি কম থাকায় সার উদ্ধার কাজ শুরু করতে পেরেছে উদ্ধারকারীরা। লাইটার জাহাজে বোঝাই থাকা সার অন্য একটি লাইটার জাহাজে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স পোটন ট্রেডাসের নিয়োগ করা ৪০ জন শ্রমিক সার অপসারণের কাজ করানো হচ্ছে বলেও জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন মালিক পক্ষ।

মোংলার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ আলম জানান, লাইটার জাহাজ থেকে উদ্ধার করা মাষ্টারসহ ১৪ জন নাবিককে জাহাজ মালিকের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সার বোঝাই লাইটার জাহাজ নিউ পারভিন-২ ঘন কুয়াশায় দিক হারিয়ে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার ভোরে মোংলা সমুদ্র বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া সংলগ্ন মেহের আলী চর এলাকায় ‘নিউ পারভিন-২’ নামে একটি কার্গো জাহাজ কাত হয়ে থাকতে দেখে কোস্টগার্ডের টহলরত সদস্যরা ওই জাহাজের ১৪ জন নাবিককে উদ্ধার করে সাগর থেকে সরিয়ে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে রাখে।

এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপরে হারবার মাস্টার কমান্ডার ফকর উদ্দিন জানান, গত ১ জানুয়ারি রাতে বন্দরের সাগরের মোহনায় ফেয়ারওয়ে বয়াতে অবস্থানরত লাইব্রেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি এন্টিগোনি’ থেকে ১২শ’ মেট্রিক টন সার নিয়ে ‘নিউ পারভিন-২’ নামের কার্গো জাহাজ মোংলা হয়ে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে ঘন কুয়াশায় দিক হারিয়ে বন্দর চ্যানেল ফেয়ারওয়ের বাইরে গিয়ে চরে আটকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিউ পারভিন-২ লাইটার জাহাজটি।

আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স পোটন ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লাইটারেজ জাহাজটি ডুবে যায়নি, ডুব চরে আটকে কাত হয়ে গিয়েছিল, এটিকে অক্ষত অবস্তায় উদ্ধার করে আনা সম্ভব হবে।

খুলনা বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব ওহিদুজ্জামান খানঁ পল্টু জানান, সার বোঝাই লাইটার জাহাজটি উদ্ধারে শুক্রবার রাতে অন্য একটি লাইটার শ্রমিকসহ পাঠানো হয়েছিল। কিন্ত রাতে কুয়াশার কারনে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পাড়ায় গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় ওখানে পৌঁছে সকাল ১১টা থেকে তাদের নিয়োগ করা দৈনিক হাজিরায় ৪০ জন শ্রমিক সার অপসারণের কাজ শুরু করে।

বিকেল পর্যন্ত সার খালাসের কাজ করছে শ্রমিকরা। সার খালাস শুরুর পর লাইটারটি কিছুটা হালকা হয়েছে এবং দুর্ঘটনা কবলীত স্থান থেকে সরে এসছে। ২শ’ মেট্রিকটনের মতো সার অপসারণ করা হলে আটকে পড়া লাইটার ‘নিউ পারভিন-২’ স্বাভাবিকভাবে নিজ গন্তব্যে যেতে সক্ষম হবে বলেও জানায় আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর