দ্বিতীয়বার অপহরণের ২৯ দিনেও উদ্ধার হয়নি সাতক্ষীরা সদরের শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সীমা রানী মিস্ত্রী। এমনকি গ্রেপ্তার হয়নি কোন অপহরণকারিও। ফলে অপহৃতের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
উত্তর ফিংড়ি গ্রামের স্কুল শিক্ষক স্বপন কুমার মিস্ত্রী জানান, তার মেয়ে সীমাকে গত পহেলা ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে মোটর সাইকেল করে অপহরণ করে নিয়ে যায় দক্ষিণ ফিংড়ি গ্রামের ওহিদুল শেখের ছেলে বখাটে রায়হান শেখ। তাকে অপহরণে সহায়তা করে ওহিদুল শেখ. তার স্ত্রী দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ৫৪ নং চরবালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা আছিয়া খাতুন ও রায়হানের মামা জালাল। রাতেই দেবহাটা থানাধীন কদবেলতলা নামক স্থান থেকে সীমাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে রায়হান, তার বাবা ও মামার নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলা করায় ক্ষুব্ধ ছিল ওহিদুল, স্ত্রী আছিয়া. রায়হানের খালু, শিমুলবাড়িয়া গ্রামের ইউসুফ সরদার ও তাদের স্বজনরা। তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আবারো মেয়েকে তুলৈ নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর রাস্তার উপরে উঠতেই তার মুখে কাপড় দিয়ে চেপে ধরে মোটর সাইকেল করে অপহরণ করে রায়হান, তার বাবা ওহিদুল, ইউনুছ ও জামালসহ কয়েকজন।
সীমার যমজ বোন সাথীও সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপহরণর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায়হানের মা আছিয়া খাতুন পুলিশের কাছে ভিকটিম উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিম্রুতি দিলেও তিন সপ্তাহেও কথা রাখেননি তিনি।
চরবালিথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমা অপহরণের পর থেকে রায়হানের মা আছিয়া প্রতিনিয়ত অপহরণকারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। যা’ তার মোবাইল কললিষ্ট যাঁচাই করলেই সত্যতা মিলবে। রবিবার স্কুল চলাকালিন সময় আছিয়া ক্লাস থেকে বের হয়ে দূরে যেয়ে তার ছেলের সঙ্গে গোপনে দেখা করছেন বলে তিনি জেনেছেন।
স্বপন কুমার মিস্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ওহিদুল, স্ত্রী আছিয়া ও তাদের ছেলে রায়হান, মামু জালালউদ্দিন ও খালু ইউসুফ মামলা তুলে না নিলে সীমাকে আর পাওয়া যাবে না বলে বিভিন্ন মাধ্যম হুমকি দিয়েছে।আছিয়া খাতুনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাতন সাতক্ষীরা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক রবীন মন্ডল বার্তা বাজারকে জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামীদের গ্রেপ্তার ও ভিকটিম উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। খুব শ্রীঘ্রই এর ফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বার্তাবাজার/এইচ.আর