প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই এখন হয় দলছুট অথবা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বলছেন, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসেব না মেলাই এর মূল কারণ। অবশ্য দলছুট এসব নেতার দাবি, আওয়ামী রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তারা।
১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের মোট ২৯ কমিটি গঠন হয়েছে। ক্রিয়াশীল এ ছাত্র সংগঠনটিতে যারা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বেশ কজন চলে গেছেন অন্য দলে অথবা দূরে আছেন রাজনীতি থেকে।বহিস্কৃতও হয়েছেন কয়েকজন। গেল ৫০ বছরে শাজাহান সিরাজ, শেখ শহিদুল ইসলাম, মনিরুল হক চৌধুরী, শফিউল আলম প্রধান, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, হাবিবুর রহমান হাবিব অন্য দলে গিয়েছেন। আর নুরে আলম সিদ্দিকী, এম এ রশিদ, মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্ক্রিয়।
১৯৭২-৭৩ সালের কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ শহীদুল ইসলাম। তিনি এখন ভিন্ন দলে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম জানান, ‘ছাত্রলীগ তখন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছিল না যে, ছাত্রলীগ করলে আওয়ামী লীগ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। যারা ছাত্রলীগ করেছে তাদের মধ্যে দু’ একজন ছাড়া সকলেই কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী।’
১৯৮৬ থেকে আটাশি সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর একাদশ সংসদে ঐক্যফ্রন্টের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছেন। যদিও তার দাবি তিনি এখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শেই রাজনীতি করছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘আমি মুজিবকোর্ট পরেই কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন সভায় বক্তব্য রেখেছি। বক্তৃতা শেষে আমি কিন্তু ‘জয় বাংলা’ বলেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ থেকে কখনই আমার বিচ্যুতি ঘটে নি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিচ্যুতি ঘটার কোন সুযোগ বা সম্ভবনা নাই।’
ব্যক্তি চাওয়া পাওয়ার হিসেব না মিললেই কি তবে ভিন্ন পথ ধরতে হয়? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীেগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না বলেন, ‘আমাদের আদর্শ, আমাদের চিন্তা-চেতনা কিন্তু বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এখন সেই জায়গায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেই জায়গায়, চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেকে যদি কোন হিসাব-নিকাশ মেলাতে যায় অনেক সময় সেই হিসাব মিলবে না। ব্যক্তির চাওয়া-পাওয়ায় যদি আদর্শচ্যুত হয় তবে দুঃখ হয় তাদের কথা ভাবতে গেলে।’
তবে এই তিন নেতাই বলছেন যে সংগঠনটির সঙ্গে দেশের ইতিহাস জড়িত সেই সংগঠনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তাদের ব্যথিত করে। শেখ শহীদুল ইসলাম আরও জানান, ‘প্রতিষ্ঠানের শ্রীবৃদ্ধির পরিবর্তে যারা ব্যক্তিগত শ্রীবৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে, সেটা সত্যিই দুঃখ জনক।’
ইসহাক আলী খান পান্না এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মী যখন দেখি যে কোন অপকর্মের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে, অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয় তখন আসলেই খুব কষ্ট লাগে।’ অপকর্মে জড়িত থাকার দায়ে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির দুই শীর্ষ নেতাকেও সম্প্রতি পদচ্যুত করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি