আবারও ডাবল সেঞ্চুরির পথে পেঁয়াজ

পাগলা ঘোড়ার মতো পেঁয়াজের দামে লাগাম ধরা যাচ্ছে না কিছুতেই; এ ভরা মৌসুমেও। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই নিত্যপণ্যটির দাম এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। জানা গেছে, গত সোমবার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এর পর প্রতিদিনই প্রায় দশ টাকা করে বেড়েছে। আর গতকাল শুক্রবার একদিনে কেজিপ্রতি এক লাফে ৪০ টাকা করে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে কেজি ১৮০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ পেঁয়াজ ক্রেতাদের হাতে পৌঁছবে আরেক দফা মুনাফার পর। সব মিলিয়ে ফের ডবল সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই করছে দাম।

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজের দর নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কম সরবরাহের কথা বলে বারবার দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুততম সময়ে শক্ত অবস্থান নিতে হবে সরকারের, নইলে পরিস্থিতি আবার বিগড়ে যাবে।

কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতা জুয়েল মিয়া বলেন, গত সোমবার নতুন দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে। আর আজ (গতকাল) একদিনেই বেড়েছে অন্তত ৪০ টাকা।

গতকাল সন্ধ্যার পর পাইকারি বাজারে দাম আরেক দফা বেড়েছে বলে জানান কারওয়ানবাজারে পেঁয়াজের পাইকারি প্রতিষ্ঠান বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. ফয়েজ হোসেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় কারওয়ানবাজারসহ রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোয় দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১৭৫ টাকা হয়ে গেছে, সকালেও যা ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।

ফয়েজ হোসেন জানান, শুক্রবার ভোর থেকে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। রোজ ৪ থেকে ৫ ট্রাক পেঁয়াজ কারওয়ানবাজারে এলেও এদিন মাত্র এক ট্রাক পৌঁছেছে। ফড়িয়ারা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষককুল তাদের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ কম তুলছেন। তাই সরবরাহও কম।

মালিবাগ বাজারের খোরশেদ বাণিজ্যালয়ের কর্ণধার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. শাহাবুদ্দিন জানান, গত সোমবার পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। মঙ্গলবার ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা; বুধবার ১০০ থেকে ১১০ টাকা। শুক্রবার সকালে ১৫০ টাকায় পৌঁছে যায় দাম।

রাজধানীতে পাইকারি পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় বাজার শ্যামবাজারের মিতালী বাণিজ্যালয়ের কর্ণধার কানাই ঘোষ গতকাল বলেন, রাজধানীর অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে দাম বেড়েছে তুলনামূলকভাবে কম। সকালে নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং সন্ধ্যায় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। তিনি মন্তব্য করেন, কাঁচামালের সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়, এটাই স্বাভাবিক। সরবরাহ পর্যাপ্ত হলে দামও কমে যায়।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দেন। আবহাওয়া, পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ সংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতার যুক্তি তারা তুলে ধরেন। এর আগেও আমরা এসব দেখেছি। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সজাগ দৃষ্টি থাকা চাই। তিনি আরও বলেন, সরকার পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির শুরুর দিকে শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় এ পণ্যটি নিয়ে এত কা- হয়েছে। এখন ফের দাম বাড়ছে। দুষ্টু ব্যবসায়ীদের ঠেকাতে তাই দ্রুত আরও শক্ত অবস্থান নিতে হবে সরকারকে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর