এনআরসি আতঙ্কে আবারও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে। মৃত আবদুল কাশেমের (৩৮) বাড়ি ডুয়ার্সের ক্রান্তি ফাঁড়ির অন্তর্গত চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পূর্ব দোলাইগাঁও গ্রামে।
মৃতের পরিবারের মানুষের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, মৃত আবদুল কাশেম পেশায় দিন মজুর ছিলেন। ওই ব্যক্তির ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডে নাম ভুল ছিল। নাগরিকত্ব প্রমাণ করার মতো জমির কাগজপত্রও তাঁর কাছে ছিল না।
গত কয়েক মাস ধরে এনআরসি সংক্রান্ত নথিপত্র জোগাড় করা নিয়ে মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে ছিলেন কাশেম। সেখান থেকেই মানসিক অবসাদের সৃষ্টি। কাগজপত্র না থাকলে তাঁকে কি ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হবে? মাঝে মধ্যেই নাকি প্রতিবেশীদের এই প্রশ্ন করতেন কাশেম।
এদিকে আব্দুল কাশেমের স্ত্রী আনসুরা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সকলে মিলে টিভিতে খবর দেখছিলাম। ওই সময় টিভিতে এনআরসি সংক্রান্ত কিছু দেখাচ্ছিল। এরপর তাঁর স্বামী হঠাৎ বলেন, ‘আমার বেঁচে থেকে লাভ নেই।’ একথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যান তিনি। অনেকক্ষণ পর বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এরপরই বাড়ির কাছে একটি গাছ থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আব্দুল কাশেমের দেহ। পুলিশ দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। এদিকে আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন মৃত্যের স্ত্রী। এতে কাশেমের স্ত্রী আনসুরা লেখেন, ‘আমার স্বামী এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন। এর দায় নরেন্দ্র দামুদর দাস মোদি ও অমিত সাহার।’
এদিকে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী জানিয়েছেন, ‘অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’ এনআরসি আতঙ্কে এই নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় গত সেপ্টেম্বর থেকে ৬ জন আত্মঘাতী হলেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
বার্তাবাজার/এমকে