কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজিপাড়া এলাকার সৈয়দ নূর (৩৬) পেশায় একজন টমটম (ইজিবাইক) চালক। মাটির ঘরে রোদ বৃষ্টি সামাল দিতে পলিথিন ঝুলিয়ে রাখা। সেই সৈয়দ নূর ইংরেজি নববর্ষের বছরের প্রথম দিনে স্ত্রীকে দিয়েছেন ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হার। যার মূল্য ১৪ লাখ টাকা।
হতদরিদ্রের আসল চেহারা ধরা পড়েছে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানে। বিশাল ইয়াবা কারবারের হোতা তিনি। আলোচিত মাটির ঘরেই মিলেছে ১০ হাজার ইয়াবা।
এলাকাবাসী বলছে, আটক ইয়াবা কারবারি ইয়াবার গরম টাকায় সম্রাট শাহজাহানের মত স্ত্রী মমতাজের মত করে স্মরণীয় ভালবাসা উপহার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম পুলিশ ইয়াবা কারবারির সেই বিরল ভালবাসা তছনছ করে দিয়েছে।
গতরাতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ইয়াবা কারবারির স্ত্রীকে ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হারটি উপহার দেয়ার ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। পুলিশ সুপার এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ইদানীংকালে ইয়াবা কারবারির দল কৌশল পরিবর্তন করে দীনহীন জীবন যাপন করছেন।
আগে কারবারিরা আলিশান ভবন নির্মাণ করতেন। কিন্তু সেই ভবনাদি ভেঙে দেয়ার কারণে এখন তারা খড়ের ভাঙাচোরা ঘরেই বাসবাস করে সন্দেহ থেকে দুরে থাকার কৌশল নিয়েছেন-জানান পুলিশ সুপার।
কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বৃহস্পতিবার রাতে এ খবর দিয়ে আরো বলেন, ‘সীমান্তে গত দুই বছরে আমার ইয়াবা অভিযানে এমন ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনাই যেন আর ঘটেনি। কেননা আটক ইয়াবা কারবারি সৈয়দ নূর (৩৬) নামের এ ব্যক্তিকে সন্দেহ করার মত কোন উপাদানই ছিল না। তিনি একজন ইজিবাইক (টমটম) চালক।’
টেকনাফ থানার ওসি আরো বলেন, আটক হওয়া কারবারি সৈয়দ নুর হচ্ছেন টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজিপাড়ার বাসিন্দা। গত দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকার ইয়াবা ডন নুর হাফেজ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার পরই পুলিশ নিশ্চিত হন যে, ইজিবাইক চালক সৈয়দ নুর একজন বড় মাপের কারবারি।
আটক কারবারি সৈয়দ নুর ছিলেন বন্দুকযুদ্ধে নিহত নুর হাফেজের ঘরের মজুর। সেই দিন মজুর সৈয়দ নুর হাফেজের ইয়াবা বহন করেই আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। প্রসঙ্গত, নিহত কারবারি নুর হাফেজের স্ত্রী সালমা সানজিদা আকতারের ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি টাকারও বেশি নগদ টাকা রয়েছে। সালমা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সৈয়দ নুরকে নিয়ে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে জানতে পারে তার ইয়াবা কারবারের বিশাল সাম্রাজ্যের খবর। অথচ ইজিবাইক চালক সৈয়দ নুর নিজেই বসবাস করেন একটি ছোট্ট খড়ের ভাঙাচোরা ঘরে। সেই খড়ের ঘরটিতে গতকাল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ইয়াবা সহ সৈয়দ নুরকে হাতেনাতে আটক করে। এরপর ঘরের মালামাল তল্লাশী করতে গিয়ে পুলিশের চোখে পড়ে ভাঙ্গা ঘরে থাকা আকর্ষণীয় স্বর্ণের হারটি।
জিজ্ঞাসাবাদে কারবারি সৈয়দ নুর জানান, এবারের ইংরেজী নববর্ষের উপহার স্বরুপ তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে ২২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হারটি উপহার দিয়েছেন। পুলিশ সেই স্বর্ণের হারের টাকার রশিদটিও উদ্ধার করেছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি