২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বরিশাল সিটি নির্বাচন: আ.লীগে শামীম-সাদিক লড়াই

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮

বরিশাল সিটি নির্বাচন: আ.লীগে শামীম-সাদিক লড়াই

ঈদ গেলেই পুরোদমে শুরু হবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড়। অবশ্য সিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাডোল। আর তাতে এগিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ক্ষমতাসীন দলটির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন এটি এখনো চ’ড়ান্ত না হলেও নেতাকর্মীদের জল্পনা-কল্পনায় রয়েছেন দলের বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এবং মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

মেয়র পদে নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এই দুজনের কর্মী-সমর্থকরা ইতিমধ্যে লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন। শক্ত দুই প্রার্থী মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় থাকায় এখন সবাই তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দিকে। কে হবেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তবে তাদের সব জল্পনা-কল্পনা শামীম-সাদিক নিয়ে। দুজনের মধ্যে আবার এগিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দিতে হলে সাদিক-শামীমের মধ্য থেকেই দিতে হবে। কেননা এই দুজন ছাড়া আর কোনো শক্ত প্রার্থী নেই আওয়ামী লীগের।

আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, সাবেক মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দিকেই এবার সমর্থনের জোয়ারটা বেশি বলে মনে করছেন তারা। কেননা একদিকে এমপি-পুত্র, অন্যদিকে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের পর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছেন সাদিক। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি বড় অংশ সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে রয়েছে।

তবে একটি অংশ প্রকাশ্যে সাদিকের বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, মেয়র পদে সাদিককে নয়, তারা চায় জাহিদ ফারুক শামীমকে। অবশ্য এই অংশটি এক আমলে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী ছিলেন। হিরণের মৃত্যুর পর তারা সাদিকের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় এবারের নির্বাচনে শামীমকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। শামীমের পক্ষে ভোটারদের কাছে গিয়ে নীরবে প্রচারও চালাচ্ছেন হিরণপন্থীরা।

কিন্তু সাদিক আব্দুল্লাহকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম থেকে শুরু করে দলীয় প্রোগ্রামগুলোতে ব্যাপক নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সব সময়। অন্যদিকে শামীমকে জাতীয় কোনো দিবস ছাড়া এই যাবৎকাল কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তাই অধিকাংশ নেতাকর্মীর দাবি- সাদিক আব্দুল্লাহকে দেয়া হোক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।

এদিকে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বেশ কজন সিনিয়র নেতা রুষ্ট সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর। কারণ জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাদিক আব্দুল্লাহ রাজনীতির মাঠে অনেকটা এগিয়েছেন এটা ঠিক। নির্বাচনী প্রচারণাও চালাচ্ছেন জোরেশোরে। কিন্তু তার কিছু লোকজনের কারণে সাধারণ মানুষ বিরক্ত। তারা মনে করছে, সাদিক আব্দুল্লাহকে ভোট দিলে আরও বেশি ঝামেলায় পড়তে হবে তাদের।

মানুষের এই ধারণা সাদিক আব্দুল্লাহ পাল্টে দিতে পারলে তার মনোনয়ন নিয়ে তাদের কোনো কথা থাকবে না বলে জানান ওই নেতারা।

মেয়র পদে বিএনপির শক্ত প্রার্থী থাকার কথাও ওই নেতারা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিএনপি থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার নির্বাচনে আগ্রহী হলে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে আওয়ামী লীগকে। সাদিক আব্দুল্লাহ যদি নিজের সমর্থকদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে জনগণের আরো আস্থা অর্জন করতে পারেন তাহলে তিনি শক্ত প্রার্থী হয়ে দাঁড়াবেন বিএনপির সামনে।

অন্যদিকে শামীমের পক্ষের লোকজন মনে করেন, তাকে মনোনয়ন দিলে বরং লাবভান হবে আওয়ামী লীগ। বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ছাত্রলীগ নেতা নূর আল আহাদ সাঈদীর দাবি, নগরবাসী জাহিদ ফারুক শামীমকে পূর্ণ সমর্থন করছে।

রাজনীতির মাঠে শামীম নতুন লোক নন উল্লেখ করে নূর আল আহাদ বলেন, ‘আমরা মনে করি জাহিদ ফারুক শামীমকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি বিএনপির বিপক্ষে নির্বাচিত হবেন। অন্য কোনো প্রার্থী বিএনপির সঙ্গে লড়াই করে পারবে না।’ তাই কেন্দ্র থেকে জাহিদ ফারুক শামীমকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে বিশ্বাস এই ছাত্রনেতার।

নূর আল আহাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম। তার মতে, বরিশাল নগরীর উন্নয়নের জন্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিকল্প নেই।

এর কারণ হিসেবে আতিকুল্লাহ মুনিম বলেন, ‘তিনি (সাদিক) তৃণমূল থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সমাধানের চেষ্টা করছেন। ছুটে যাচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষের কাছে। সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচনে দাঁড়ালে নিঃসন্দেহে জয়ী হবেন তিনি।’

আরেক ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত বলেন, ‘নগরীর উন্নয়নের জন্য নগরবাসী সাদিক আব্দুল্লাহকেই ভোট দেবে। ইতিমধ্যে সাদিক আব্দুল্লাহকে সমর্থন করেছে প্রতিটি এলাকার মানুষ।’

নিজের যোগ্যতায় রাজনীতির এতটা কঠিন অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন সাদিক আব্দুল্লাহ- এমনটাই মনে করেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। তার মতে, বরিশালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনসমর্থন প্রশ্নে সাদিক আব্দুল্লাহর অবস্থান নেত্রীর অজানা নয়।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল জানান, সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র প্রার্থী করার জন্য তারা কেন্দ্রে দাবি তুলেছেন। সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।