তাবিথ-ইশরাকের পক্ষে মাঠে নামছে জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোট

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন ১০ জানুয়ারি। বাকি এখনো আট দিন। বিএনপির প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ে বৈধতা পাওয়ার প্রথম বৈতরণী উতরাতে পেরেছেন গতকাল বৃহস্পতিবার। এখন তারা প্রচার-প্রচারণার কৌশল ও ইশতেহার প্রণয়নে মনোনিবেশ করছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই তবে তারা মাঠে নামতে চান।

বিএনপির উত্তর-দক্ষিণের দুই প্রার্থীই জানালেন তারা নির্বাচনি প্রচারণা কৌশল ও এজেন্ডা মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছেন। এ নিয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতারাও কাজ করছেন। গত কয়েকদিন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণের প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। নেতাকর্মীদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি দিকনির্দেশনাও দেন দুই তরুণ নেতা। পরামর্শ নেন সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের। প্রচারের জন্য একাধিক ভিডিওর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন তারা। ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভিজুয়াল প্রচারণাকে গুরুত্ব দিবেন তারা। মূলত দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে ভোটের লড়াই। নতুন কৌশল নিয়ে প্রচারে নামার পরিকল্পনা করছেন মেয়র প্রার্থীরা। ইতিপূর্বে উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম ও বিএনপির তাবিথ আউয়ালের মেয়র পদে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে দুই দলের দুই প্রার্থীই নতুন।

এদিকে বিএনপির দুই প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা মাঠে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জামায়াত অতীতে বিভিন্ন সিটি নির্বাচনে বিএনপির পাশাপাশি আলাদা ভিন্ন ব্যানারে মেয়র প্রার্থী দিলেও ঢাকা সিটিতে কোনো মেয়র প্রার্থী দেয়নি। তবে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছে। গত শুক্রবার ২০ দলের বৈঠকে তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনকে সমর্থন ঘোষণা করেন ২০ দলের শরিক দলগুলো। তবে সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আরেক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের কোনো আগ্রহ নেই বলে তারা জানিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের শরিক নেতারা বলছেন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা প্রার্থী দেওয়া নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি তাদের। ফলে, এই নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহও নেই। বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষেও কাজ করা বা বিরোধিতা করা, কোনোটিই করবেন না তারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আমার কোনো আলাপ হয়নি। এই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। জোটভুক্ত শরিক দলগুলো নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। এদিকে বিএনপির দুই প্রার্থী তাদের কী প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাবেন, জয়লাভ করলে কী করবেন তার একটি পরিকল্পনার কথা জানান।

বিএনপির দায়িত্বশীলরা বলছেন, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারের আর্থিক দুর্নীতি, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভোটাধিকার ইস্যুটি মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণায় জায়গা পাবে। উত্তরের তাবিথ আউয়াল নির্বাচিত হলে দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা মহানগরী গড়ে তুলতে চান। ইশরাক হোসেন মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকাকে নিয়ে ১০০ বছরের ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করবেন।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর