ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের অবস্থা অনেকটাই লেজেগোবরে। গত তিন বছরে দু’টি কমিটি প্রদান করা হলেও যার একটিও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে দীর্ঘ হচ্ছে কমিটিতে স্থান পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মীদের সারি। অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভের। হতাশায় ছাত্র রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক সম্ভাবনাময় ছাত্রনেতা। এ শাখার রাজনৈতিক অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ই এপ্রিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৮ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৫ই এপ্রিল বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান শাহিনকে সভাপতি এবং একই বিভাগের জুয়েল রানা হালিমকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে কমিটি প্রদানের দেড় বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি শাহীন-হালিম।
পরবর্তীতে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ ৯ মাস স্থগিত ছিল এ ইউনিটের কার্যক্রম। এরই ফলশ্রুতিতে ২০১৯ সালের ১৪ই জুলাই উক্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি এবং ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তবে এ কমিটি প্রদানে অনৈতিক অর্থ লেনদেনসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে সরব একাধিক পদ প্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতা। ছাত্রলীগের ঐ অংশ ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।
এছাড়া ছাত্রলীগের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেও দেখা গেছে পদপ্রত্যাশী ঐ অংশকে। পাশাপাশি বর্তমান কমিটি বাতিল করে বিভিন্ন সময়ে নতুন নেতৃত্বের দাবী করে আসছেন তারা। এ অংশের নেতৃত্বে আছেন সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন, সহ সম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত।
এদিকে, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জেলা শাখার মর্যাদা পেয়ে থাকে। ইবিও এর ব্যতিক্রম নয়। গঠনতন্ত্রের সংগঠন ও সাংগঠনিক কাঠামোর ১০(খ) অনুযায়ী
জেলা শাখার কার্যকাল ১ বৎসর। সে অনুযায়ী ইবির বর্তমান ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ রয়েছে আর ৬ মাস।
গত প্রায় ৩ বছর ইবি ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করায় কয়েক বছর বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় রাজনীতি করেও পদ ছাড়াই শূন্য হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে মেধাবী কর্মীদের। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ছাত্রত্ব খোয়ানো, বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা। এতে চরম ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মূলধারার ত্যাগী কর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদ্য সাবেক এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে ইবি ছাত্রলীগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হচ্ছে না। একজন শিক্ষার্থী চার বছর মেয়াদী অনার্স ও এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স করতে পাঁচ বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। প্রথমবর্ষ থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেও মাস্টার্স শেষ হওয়ায় আমার মতো অসংখ্য ছাত্রলীগ কর্মী পদ ছাড়াই খালি হাতে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিচ্ছেন।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় হল কমিটি পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, গত কমিটিতে আমি হল কমিটির পদপ্রত্যাশী ছিলাম, এতোদিন ধরে পরিশ্রম করলাম, সংগঠনকে সময় দিলাম কিন্তু বিনিময়ে কোনো ফল পেলাম না।
সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতারা। ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ফোকাসিং না থাকলে নতুন কর্মী আসবে না বলেও মনে করেন তারা।
ইবি ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পরে কমিটি হলেও তা পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় হতাশ তারা। শেষ পর্যন্ত কমিটিতে স্থান পাবেন কিনা সে বিষয়ে সন্দিহান হয়ে অনেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন নিরবে নিভৃতে। এ সুযোগে তাদের শূন্য স্থানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে ক্যাম্পাসে মারমারির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ক অনেক জুনিয়র কর্মী।
কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতাম কিন্তু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে দেয়া সম্ভব হয়নি। সামনে ছাত্রলীগের পুনর্মিলনীর পরে কমিটি দেয়ার কথা বলে তিনি বলেন, কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। ছাত্রলীগে অভ্যন্তরীণ সমস্যা চলছে, অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা তৈরী করে রাখা হয়েছে যার কারণে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আশা করি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে তবে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে জানুয়ারীর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবো।
সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে গতিশীল করতে একটি সুন্দর পুর্নাঙ্গ কমিটি আমরা উপহার দিতে চাই কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী ক্যাডার এবং বহিরাগত অছাত্র যারা টেন্ডার এবং মাদক ব্যাবসা এর সাথে জড়িত তারা বিভিন্নভাবে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালাতে বাধাসৃষ্টি করছে আমরা আমাদের অভিভাবক কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছি অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে একটা পুর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিবে বলে আমি আশা করি।