ডিএনসিসির দুই মেয়র প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
শুধু নাগরিক সমস্যা নয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল সমাধান করতে চান সামাজিক সমস্যারও। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, গেল ৯ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটিকে বাসযোগ্য করে তুলতে চান। দুই প্রার্থীই নিজেদের ইশতেহারে গুরুত্ব দিচ্ছেন মশক নিধন, যানজট নিরসনের মত সমস্যার সমাধানে।

১৬০ দশমিক ৭৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা এখন ৫৪টি। রাজধানীর এই অংশের ৩০ লক্ষাধিক ভোটার আগামী ৩০শে জানুয়ারি তাদের অভিভাবক নির্বাচিত করবেন। মেয়র নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আর বিএনপির তাবিথ আওয়ালের মধ্যে।

দুই প্রার্থীর কাছেই নাগরিকদের সমস্যা চিহ্নিত। নির্বাচিত হলে সমস্যা সমাধানে দুই প্রার্থী জানিয়েছেন তাদের পরিকল্পনার কথা।

আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর যদি দেখি কোনো সংস্থার দ্বারা আমার নগরবাসী কোনো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাহলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করব এবং আমি কোনো ছাড় দেবোনা।’ নতুন ওয়ার্ডগুলোকে পরিকল্পনা করে সাজানোর কথা জানান আতিকুল ইসলাম। তিনি জানান, নতুন এই ওয়ার্ডগুলোতে স্কুল, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার কোথায় হবে তা পরিকল্পনা করে স্থাপন করা হবে।

আর বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়াল বলেন, ‘রাজধানী যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে তাতে এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী জোন গড়ে তুলতে হবে। কোথায় স্কুল হবে, কোথায় আবাসিক এলাকা হবে তা পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে। আর যেহেতু ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ রয়েছে তাই জনসংখ্যার হিসাব মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’ পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা সমাধানের কথাও জানান বিএনপি মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী।

যেসব সমস্যার জন্য নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়, ইশতেহারে তা সমাধানের রূপরেখা দিতে চান দুই প্রার্থীই।

গেল বছর সবচেয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল ডেঙ্গু নিয়ে। তাই এবার মেয়র নির্বাচিত হলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমাতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নিতে চান আতিকুল ইসলাম। তিনি তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে একটা অ্যাকশন র‌্যাপিড টিম গঠন করা হবে। এই টিমের কাজ হবে যেখানেই কেউ একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে সেখানেই এই টিমের সদস্যদের পাঠানো হবে। তারা সেখানে গিয়ে স্প্রে করে দিয়ে আসবেন অথবা ডেঙ্গু মশার প্রজনন স্থান ধ্বংস করে দিয়ে আসবে।

অন্যদিকে, মেয়র হলে অনেক দায়িত্ব নিতে রাজি আছেন। তবে, মেয়র না হলেও অনেক কাজ করার আছে বলেও জানান তাবিথ আউয়াল। মেয়র না হলেও তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে আসবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

সমস্যা চিহ্নিত করে নগরে জলাবদ্ধতা এবং ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে ময়লা-আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘যদি ময়লা-আবর্জনা সঠিক স্থানে এবং আবর্জনার ধরন অনুযায়ী পৃথক করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয় তাহলে রিসাইকেল করতে যেমন সুবিধা হবে, তেমনি নগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। আর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হলে মশার বংশবৃদ্ধি হবে না।’

দুই প্রার্থীরই প্রত্যাশা ৩০শে জানুয়ারি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই শহরের নাগরিকরা মেয়র হিসেবে তাদের যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর