সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী বছরের শুরুতে বিভিন্ন স্কুলে বিনামূল্যে বই বিতরণসহ বই উৎসব পালন করা হয়েছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বেলুন ও ফেষ্টুন উড়িয়ে বই বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে উক্ত বই বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন, সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহিন, সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন, সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমরেশ কুমার দাস প্রমুখ। এরপর, সাতক্ষীরা সিলভার জুবলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরের বই বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সাতক্ষীরা টাউন গার্লস হাইস্কুল:
শিক্ষার মান উন্নয়ন ইতিপূর্বে কোন সরকার ইংরেজী নতুন বছরের প্রথম দিনে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে বই তুলে দিতে পারেনি উল্লেখ করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেছেন, একটি জাতিকে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা বিস্তারে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও সাতক্ষীরাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বর্তমান সরকার একটি অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্কুলে স্কুলে বই উৎসবে মেতে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। নতুন বই পেয়ে তাদের মনে আনন্দের বণ্যা বইছে। কোন জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সুতরাং শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি করে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। জানতে হবে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে। বই পড়ার চেয়ে ভালো কিছু নেই।
বুধবার সকাল নয়টায় সাতক্ষীরা টাউন গার্লস হাইস্কুলে বই উৎসবের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাউন গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বানু।
ডিবি গার্লস স্কুল:
শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-এ স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বই উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। পয়েলা জানুয়ারি সকাল ১০টায় স্কুলের হলরুমে প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম দুলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. আবুল হোসেন। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছোবহান, ধুলিহর ইউপির সাবেক মেম্বর ভৈরব চন্দ্র সরকার, সমাজ সেবক কওসার আলী, শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল হামিদ বাবু, নজর উদ্দিন সরদার প্রমুখ। এ সময় স্কুলের সকল শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম।
কালিগঞ্জের নলতা জুনিয়র হাইস্কুল:
বর্তমান সরকারের বড় অর্জন, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ৩৫ কোটি বই। বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। নলতায় বই উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক (এমপি) একথা বলেন। বুধবার বেলা ১১ টায় নলতা জুনিয়র হাইস্কুলে বই উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। প্রধান অতিথি বক্তব্যে আরও বলেন- এবার সারাদেশে ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার নতুন বই বিতরণ করা হবে। ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ ২ হাজার ৩৭৫টি বই এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। এ সব বই ছাপাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ৩৫০ কোটি এবং মাধ্যমিকের জন্য ব্যয় হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা। ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০০টি বই, প্রাথমিক স্তরের জন্য ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৭২টি বই ছাপা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষার ৯৭ হাজার ৫৭২টি শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩০টি বই ছাপানো হয়েছে। দেশের ৭৫০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হয়েছে ৯ হাজার ৫০৪টি বই। মাধ্যমিক স্তর ও মাদরাসার দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই। ইবতেদায়ি (মাদরাসার প্রাথমিক) স্তরের জন্য ছাপানো হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি বই। এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১৬ লাখ ৩ হাজার ৪১১টি বই, এইচএসসিবিএম ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ৬ হাজার ২৮টি বই এবং দাখিল ভোকেশনালের জন্য ছাপানো হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯টি ৬৫টি বই।

পলাশপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়:
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাতক্ষীরার পলাশপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সাতক্ষীরার আয়োজনে জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসব ২০২০ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাতক্ষীরা সদর ০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ২০২০ সাল বাঙালী জাতির কাছে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে কার এ বছরে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশে বছরের শুরুতে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূলে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় বহিঃবিশে^ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নন্দিত আলোচনা করা হয়। বঙ্গবন্ধু বাঙালী জাতির অহংকার। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এধারা অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগিতা থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন, সাতক্ষীরা ইসলামীক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, পলাশপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান খান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালেকা বানু, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আনিছ খান চৌধুরী বকুল প্রমুখ। এসময় ৩শ’৭৭ জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পলাশপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনজু সরকার।
আয়নউদ্দীন মহিলা মাদ্রাসা:
শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-এ স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা আয়নউদ্দীন মহিলা আলিম মাদ্রাসায় বই উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। পয়েলা জানুয়ারি সকাল ১০ টায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব ডা.আবুল কালাম বাবলা।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো: রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকার আব্দুর রহিম, শিক্ষাবীদ আব্দুল মজিদ ও আব্দুল জব্বার, সমাজ সেবক আয়ুব আলী, অভিভাবক সদস্য মইনউদ্দীন প্রমুখ। মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক সাখাওয়াত উল্যাহর পরিচালনায় শিক্ষকদের মধ্যে থেকে প্রভাষক আবুল হাসানসহ অনেকে বক্তব্যে রাখেন।
তবে সাতক্ষীর জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, এবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ভোকেশনাল, দাখিল, এবতেদায়ী, ইংলিশ মিডিয়াম ও ট্রেড স্কুলে মোট ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৭০টি নতুন বই দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে জেলার ৩২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫৬০টি বই দেওয়া হয়েছে। এক হাজার ৪২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য নয় লাখ ৪৩ হাজার ২১৫টি বই দেওয়া হয়েছে। ২১৪টি দাখিল ও এফতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০০টি বই
দেওয়া হয়েছে। ভোকেশনাল, ইংলিশ মিডিয়াম ও ট্রেড স্কুলে ৬৩ হাজার ৫৪৯টি বই দেওয়া হয়েছে।
গত বছর জেলায় নতুন বই দেওয়া হয় ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৯টি বই। গত বারের তুলনায় এবার বই বেশি দেওয়া হয়েছে ছয় লাখ ২০ হাজার ১৭১টি বই।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রহুল আমিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বার্তাবাজার/এমকে