মুজিব বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বিনাসুদে কৃষি ঋণ বিতরণ শুরু করলো রূপালী ব্যাংক।
প্রান্তিক কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কৃষক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ঘটাতেও ভূমিকা রাখবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বাণিজ্যিক ব্যাংক। বিনাসুদে প্রান্তিক কৃষককে ঋণ দেয়ার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সবশেষ কৃষি জরিপ অনুযায়ি দেশে এখন ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার পরিবার রয়েছে। যার মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার পরিবার কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
ধান, শাক সবজিসহ নানা মৌসুমী ফসল কিংবা ঝাঁজালো পেঁয়াজ অথবা মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের যে সাফল্য, তা এসেছে কৃষকের হাত ধরেই। তবে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এ সাফল্যের মুকুট ওঠেনি কৃষকের মাথায়।
বঞ্চিত কৃষককে উৎসাহ দিতেই বিনাসুদে ঋণ দেয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। রূপালী ব্যাংক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “প্রান্তিক চাষী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের যে বড় ব্যবধান এখানে সুদেরও একটা ভূমিকা আছে। এখন যদি আমরা কৃষককে বিনা সূদে ঋণ দেই এবং পন্য (টমেটো) দুই টাকার যায়গায় ৩০টাকায় বিক্রি করি, তাহলে সে যেমন বাড়তি মুনাফা পাচ্ছে তেমনিভাবে সে সাবলম্বি হয়ে উঠছে।”
জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। ৪০ ভাগেরও বেশি মানুষ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল হলেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাদের একটি বড় অংশ রয়েছে দারিদ্রসীমার নিচে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে তারা যে প্রকল্পটা গ্রহণ করেছে, এটা যদি ফলপ্রসূ হয়, এবং সম্প্রসারিত হয়, তাহলে আমাদের দেশের অনেক কৃষক এর আওতায় আসবে এবং এটা দেখে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো উৎসাহিত হবে।”
প্রাথমিকভাবে নাটোর জেলার ৫০০ টমেটো চাষিকে দিয়ে শুরু করা বিনাসুদে কৃষিঋণ দেয়ার উদ্যোগ দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চায় রূপালী ব্যাংক।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি