প্রচন্ড বায়ুদূষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। দেশটির রাজধানী কাবুল ও এর আশেপাশের এলাকায় বিপজ্জনক মাত্রায় দূষণ বাড়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে এদের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
গতকাল ৩১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার দেশটির গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে গণমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিপজ্জনক বায়ুদূষণে গত কয়েকদিনে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৭ জন মারা গেছেন।
দেশটির গণস্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ফিদা মোহাম্মদ পাইকান জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ফুসফুসের সমস্যাসহ বায়ুদূষণ জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৯ হাজারের মতো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য কাবুলের ব্যবসায়ীদেরই দায়ী করেছেন ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির মুখপাত্র লেইলা সামানি তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা পরিবেশের দিকে কোনো মনোযোগ না দিয়েই বায়ুদূষণ করে যাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতে দেশটির মিউনিসিপালিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এজেন্সিকে সংকট নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। বায়ুদূষণের দায়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ওয়েডিং হল ও দুটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ঘানি আবাসস্থল গরম রাখার জন্য স্থানীয়দের প্রতি অতিরিক্ত কয়লা, টায়ার ও প্লাস্টিক ব্যবহার না করারও আহ্বান জানান।
যদিও বায়ুদূষণের প্রাথমিক কারণ হিসেবে কাবুলের বাসিন্দারা দেশের মাত্রাতিরিক্ত দারিদ্র্য ও বিদ্যুতের অভাবকেই দায়ী করেন। এখনো সস্তায় গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না যাওয়ায় তারা শীত থেকে বাঁচতে কয়লা, টায়ার ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে ঘর গরম রাখেন। তাই বায়ুদূষণের সমাধানের জন্য আগে সস্তায় গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি