বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশের পর সেই কয়েল ফ্যাক্টরির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তিতাস

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারে সংবাদ এবং ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হবার পর ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার মধ্য আউকপাড়া এলাকার সেই মশার কয়েল ফ্যাক্টরির ‘ড্রায়ার রুম’ এ অবৈধভাবে নেয়া গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাসের সাভারের জোনাল অফিস। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম এর নেতৃত্বে ওই বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালিত হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বার্তা বাজারে ‘অবৈধ গ্যাস সংযোগে আবাসিক এলাকায় চলছে অবৈধ কয়েল কারখানা, ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা (ভিডিও)’ শীর্ষক সংবাদ এবং ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে বশির আহম্মেদ এর মালিকানাধীন বাড়ীর নীচতলায় মশার কয়েল কারখানায় অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এর পাশাপাশি তার নামে নেওয়া বৈধ সংযোগটিও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে।

এব্যাপারে প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম জানান, এই বাড়ীর মালিক নিজের বৈধ সংযোগ থেকে যেহেতু অবৈধভাবে কয়েল কারখানার ‘ড্রায়ার রুম’ এ পাইপলাইন দিয়ে সংযোগ দিয়েছেন, সেহেতু বাংলাদেশ গ্যাস আইনে অপরাধ করেছেন। এজন্য অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সহ তার বৈধ সংযোগটিও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিতাস কর্তৃপক্ষ আইনী ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, সকালে তিতাসের অভিযান চলাকালে মধ্য আউকপাড়ার কয়েল কারখানাটি বাইরে থেকে তালা বদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে দেখা যায়, কয়েল কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা একটি কক্ষের ভিতর লুকিয়ে আছে। এসময় পুলিশ তাদেরকে বের করে আনে। ভিতরের ‘ড্রায়ার রুম’টি ও তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে অবৈধ সংযোগটির সন্ধান পাওয়া যায়।

তবে পুলিশের উপস্থিতি দেখে মশার কয়েল কারখানার ম্যানেজার হাবিব ও বাড়িওয়ালা বশির আহম্মেদ সটকে পড়েন এবং পরে তাদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তারা কল রিসিভ করে নাই।

এদিকে, ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পূর্ব সদরপুর এলাকার নাভানা হাউজিং ও সংলগ্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর জোনাল বিপণন অফিস অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালনা করেছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দিনভর এই অভিযান চলে।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ওই এলাকার আনুমানিক ৩ কিলোমিটার ব্যাপী অবৈধ বিতরণ লাইন তুলে ফেলা হয়। এতে করে ওই এলাকাগুলিতে অবৈধ সংযোগ নেয়া প্রায় ১ হাজার বাসাবাড়ির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অভিযান চলাকালে অবৈধ সংযোগ কাজে ব্যবহৃত পাইপ ও রাইজারগুলিও খুলে জব্দ করে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

অভিযান চলাকালে এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপ-ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান, সহ-ব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলী, সহ-ব্যবস্থাপক সাকিব বিন আব্দুল হান্নান, সহ-কর্মকর্তা এহসানুল হক প্রমুখ সহ তিতাসের কারিগরি টিমের শ্রমিকগণ।

পূর্ব সদরপুর এলাকার দিনভর অভিযানের ব্যাপারে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (জোবিঅ) এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম জানান, ‘আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার ব্যাপী অবৈধ সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন করেছি। অবৈধ সংযোগকারীরা আমাদের মূল গ্যাসের সরবরাহ লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ পাইপ ব্যবহার করে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করে অবৈধ সংযোগ প্রদান করেছে। এতে আনুমানিক প্রায় ১ হাজার বাসাবাড়ীর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

গণমাধ্যমকে তিনি এসময় আরও জানান, যারা এসব অবৈধ সংযোগ গ্রহন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্যাস আইনে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এজন্য সকল বাড়ীওয়ালাদের উচিত অবৈধভাবে এরকম ঝুঁকি নিয়ে গ্যাস সংযোগ গ্রহন না করা। এরপরও যদি৷ তারা এরকম করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনী প্রক্রিয়ার ভিতরে যাবো।

এই এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সদরপুর এলাকায় গ্যাসের বৈধ সংযোগ না থাকায় স্থানীয় শাহজাহান এর নেতৃত্বে একটি চক্র রাইজার প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে কয়েক’শ বাড়িওয়ালাকে এনে দেয় অবৈধ গ্যাস সংযোগ। পরে খবর পেয়ে গত নভেম্বর মাসে এ গ্যাস সংযোগগুলো তিতাস কর্তৃপক্ষ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মাস যেতে না যেতে বিচ্ছিন্ন সংযোগ গুলোতে পুনরায় সংযোগ স্থাপনে মরিয়া হয়ে উঠে ওই দালাল চক্রটি। এরই মধ্যে প্রত্যেক বাড়িওয়ালার থেকে রাইজার প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে পুনরায় তিতাসের বিচ্ছিন্নকৃত সংযোগ অবৈধভাবে নিম্নমানের পাইপ ও ফিটিংস দিয়ে সংযোগ প্রদান করে।

প্রসঙ্গত, অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) মুন্সি আশিকুর রহমান এর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর