নতুন বর্ষ বরণে সাড়ে তিন লাখ পর্যটকে ঠাসা কক্সবাজার বেলাভূমী

নতুন বছর বরণে আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকী। চলতি বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে প্রস্তুত গোটা বিশ্ববাসী। বিশ্বে সাথে তালমিলিয়ে বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই কিছুতে। তাই বছরের শেষ সূর্যাস্ত ও নতুন বছরকে বরন করতে বিশ্ববাসীর নানার বাড়ী কক্সবাজার সেজেছে বর্ণিল সাজে। পর্যটকদের কলরবে মূখরিত কক্সবাজার বেলাভূমী। দেশী বিদেশী পর্যটকদের উপছেপড়া ভীড়ে তীল ধরার ঠাই নেই জেলার পর্যটন স্পট গুলোতে। পর্যটকদের ভ্রমন অবাধ করতে কয়েক স্থরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলার কথা জানিয়েছেন জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেলাভূমির শহর কক্সবাজারে ব্যাপক হারে পর্যটকদের চাপ বেড়ে গেছে। তার সাথে বিদেশী পর্যটকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কক্সবাজারে ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত দুই শতাধিক ফাইভ ষ্টার, থ্রি ষ্টার, হোটেল মোটেল ও কটেজ রয়েছে। প্রত্যেকটা হোটেল সেজেছে পশ্চিমা আদলে। বিকেলে প্রথম সারির কয়েকটি হোটেল ইনডোর সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন রেখেছে।

কক্সবাজারের পাশাপাশি পর্যটকরা জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও ভীড় করছেন। ইনানী সৈকত, পাহাড়ি ঝরনা হিমছড়ি, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, টেকনাফ সৈকত, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, রামু বৌদ্ধ মন্দির, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়াদ্বীপ, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, কুতুবদিয়ার সৌরবিদ্যুৎসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে উপচে পড়েছে পর্যটক।

জেলার আবাসিক হোটেল গুলোতে কোন রুম খালি নেই। এমনকি হোটেল গুলোর ছাদেও পর্যটকে ঠাসা। অনেক পর্যটক হোটেলে রুম না পেয়ে বাড়তি টাকা গুনে সৈকতের আশেপাশে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে উঠেছে।

এদিকে স্থানীয়দের ধারনা, এই শীতে রাতে ৭০হাজারের বেশী পর্যটককে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে আবাসিক হোটেল ও খাবারের হোটেল গুলোতে সবকিছু অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে। ঢাকা যাত্রা বাড়ি এলাকার বেসরকারী প্রতিষ্টানের এক কর্মকর্তা মিজান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছি। গেলো বছর ৬হাজার টাকায় সাধারন ডাবল রুমে ছিলাম কিন্তু এবারে একই মানের রুম ১০ হাজার টাকা।

সীতাকুন্ড থেকে এসেছেন সুমা, জাহরা, জেসমিন ও ফাহমীসহ ৪ বান্ধবী। তারা জানান রুম না পেয়ে এক লোকের মাধ্যমে কলাতলীর একটি বাড়িতে ৮হাজার টাকায় কোন রকম মাথা গুজার ছোট একটি রুম ভাড়া নিয়েছি এক রাতের জন্য। প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত মারাত্বক রুম সংকট শুরু হয়েছে। আবার অনেকে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মৌসুমের শুরু থেকেই পর্যটকের চাপছিলো দৃশ্যমান। এবারে থার্টি ফাস্ট নাইট সামনে রেখে বিগত তিন বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে পর্যটকের চাপ একটু বেশী। রুম সংকটের কথা স্বীকার করলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান বার্তা বাজার কে জানান, আজ এবং আগামীকাল কক্সবাজারে অন্তত সাড়ে ৩লাখ লোক সমাগম ঘটবে। এই পর্যন্ত কোন অপ্রীতিক ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা আলাদা আলাদা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।

জেলা পুলিশের বরাতে জানা গেছে, এবারে আউটডোর কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্টান থাকছেনা। ইনডোর অনুষ্টান গুলোও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যটক হয়রানী বন্ধ করতে জেলার পর্যটন স্পট গুলোতে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

বার্তাবাজার/এইচ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর