টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক কভারেজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
রোববার রাতে বিটিআরসির নির্দেশনার পর এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে দেশের সবকটি অপারেটর।
একটি অপারেটরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ নির্দেশনার ফলে চার অপারেটরের প্রায় দুই হাজার বিটিএস বন্ধ করা হয়েছে। সব অপারেটরই ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে।’
এর ফলে সীমান্ত এলাকার প্রায় কোটি গ্রাহক মোবাইল ফোন ব্যবহারে সমস্যায় পড়বে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
গ্রামীণফোন, টেলিটক, রবি এবং বাংলালিংক বরাবর পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ বন্ধ রাখতে হবে।
নির্দেশনার বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ নির্দেশনাটি সাময়িক বলেও জানান তিনি। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে সীমান্ত এলাকায় ইন্টারনেট সেবাও থাকবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন তার মন্ত্রণালয় থেকে এই সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। সিদ্ধান্তটি সরকারের। সরকার বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে। বিটিআরসি কী নির্দেশ পেয়েছে, কী বাস্তবায়ন করছে, সেটি বিটিআরসি বলতে পারে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবশ্য এ চিঠি দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
‘এটা একটা সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে উচ্চপর্যায় থেকে। কিছুটা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে ইন্ডিয়াতে। সেটি বোধ হয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। তবে আমরা কিছু করিনি এখনো। প্রক্রিয়াধীন আছে। কী করতে পারি চিন্তা করছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ভারতের নাগরিক পঞ্জি নিয়ে যেন কোনো অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, কেউ যেন প্রোপাগান্ডা বা গুজব রটনা না করতে পারে, সে জন্য সরকার তৎপর আছে।
কিন্তু এর সাথে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের কী সম্পর্ক? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্ডার বিটিএস তো, এপাশের কথা ওপাশে যায়। হয়তো কিছু প্রোপাগান্ডা করার মতো খবর সরকারের কাছে আছে। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট আছে যে গুজব রটনা হতে পারে। বিটিআরসিকে বলেছে, কি করা যায়।’
বিটিএস বা বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন ব্যবহার করেই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, তারা কিছু করেননি এখনো, তবে কী করা যায় ভাবছেন তারা। কী সক্ষমতা আছে। কিভাবে করব। করলে কী প্রভাব পড়বে, মানুষের ক্ষতি হবে কি না। সেটা ভাবছি, ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গুজব যেন না হয়, কোনো অসন্তোষ বা বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, সে জন্য কী করা যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা।
মোবাইল বন্ধ হলে মানুষের কষ্ট হবে সেটিও আমরা ভাবছি। অনেক গ্রাহকের সমস্যা হবে। সে জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। কিছু করলে সাময়িকভাবে করা হবে। পুরো নেটওয়ার্কের কিছু হবে না। গুজবের সম্ভাবনা না হলে কিছু করব না।
তিনি জানান তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করলে সীমান্ত এলাকায় যে বিপুল সংখ্যক টাওয়ার আছে, সেগুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ করতে হবে। আমাদের টেকনিক্যাল টিম বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখছে।