শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম । আর সেই কুড়িগ্রামে এ বছর অর্থ্যাৎ ২০১৯ সালে মিলেছে শিশু ও নারীসহ ১০ জনের মরদেহ । এ বছরের গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে শহরে বেড়ে যায় হত্যাকাণ্ডের পরিমাণ । এতে জনমনে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় সবকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটন করতে সক্ষম ও দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করায় জনমনে কিছুটা স্বস্তিও ফিরে আসে। কুড়িগ্রাম পুলিশের একাধিক সুত্র বলছে- এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়ী পারিবারিক কলহ, সুদের টাকার লেনদেন, মাদক ও নারী সংশ্লিষ্ট শত্রুতা ।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলার পৌর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নজরুল ইসলাম ম্যানা ও রুমি বেগম দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার একদিন পরই ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পার্কিং করা একটি বাসের ভেতর থেকে শিশু হেলপার শিপনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
গত ৯ অক্টোবর কুড়িগ্রাম শহরের হাটির পাড় এলাকায় নিজ ঘর থেকে গৃহবধূ শারমিন আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর কয়েকদিন পর গত ১৯ , ২০ ও ২১ অক্টোবর পরপর তিনটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এসময় জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সাধারণ মানুষ।
১৯ অক্টোবর নাগেশ্বরী পৌর এলাকার নাগেশ্বরী-ফুলবাড়ী সড়কের বালাটারী জোড়াব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশে একটি ধানক্ষেত থেকে রাজা নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার পরের দিন ২০ অক্টোবর রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারির চরের একটি কাশবন থেকে নিখোঁজের চার দিন পর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মমতাজ আক্তার জিম্মির হাত ও মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর একদিন পরেই ফের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারের পাশে একটি ধানক্ষেত থেকে জয়নাল আবেদীন নামে এক পল্লী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১০টি হত্যাকান্ডের মধ্যে ১টি বাদে সব গুলো হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় জেলা পুলিশ । এসব হত্যা কান্ডের মধ্যে দেখা যায়,সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, চুরি, ছিনতাই, পরকীয়া ,পূর্ব শত্রুতা মূলত দায়ী । আর যে ১টি হত্যাকান্ডের রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারে নি পুলিশ,সেটা হলো,
১৯ অক্টোবরের নাগেশ্বরী পৌর এলাকার বাসিন্দা যুবক রাজার হত্যা । পুলিশ শুরুর দিকে যুবকের হত্যাটি সড়ক দুর্ঘটনা দাবি করলেও পরবর্তীতে এটি হত্যা কান্ড হিসেবেই মামলা হয় । পরিবার বলছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা রাজাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। পরে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার বার্তা বাজার কে জানান, “যুবকটির ময়না তদন্তের রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি,তবে এটা হত্যাকান্ড হিসেবে মামলা দায়ের হয়েছে,অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে,আমরা চেস্টা করছি তাদের আইনের আওতায় আনার ।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে প্রায় সবকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটনসহ আসামি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ জেলার কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মসজিদভিত্তিক মত বিনিময় ও উঠান বৈঠক চলমান রয়েছে। ’
জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তথ্য আদান-প্রদানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলাদা পেজ খুলে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এছাড়াও কমিউিনিটি পুলিশিং ইউনিটগুলোকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলার সব পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ যেকোনও সমস্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারেন। আশা করছি এসব ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস