অবৈধ গ্যাস সংযোগে আবাসিক এলাকায় চলছে অবৈধ কয়েল কারখানা, ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা (ভিডিও)

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার মধ্য আউকপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক বাড়ীর ভিতরে মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক উপাদান সমৃদ্ধ নিম্নমানের কয়েল কারখানা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বাজারে বিএসটিআই এর অনুমোদিত কয়েলগুলির ভিতরে এই কারখানায় তৈরী করা কয়েলের নাম নেই, নেই কোনো ধরণের সাইনবোর্ডও।

সোমবার সরেজমিন আশুলিয়ার মধ্য আউকপাড়া এলাকার ওই কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, জনৈক বশির আহম্মেদ নামের বাড়ির মালিক তার বাড়ির নিচতলায় এই কারখানাটির জন্য একজনকে ভাড়া দিয়েছেন। তবে কয়েল কারখানাটির আসল মালিক কে সেটা রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।

কয়েল কারখানার ম্যানেজার হাবিব নামের একজন জানান, মালিকের নাম তিনি জানেন না, তিনি কালেভদ্রে কারখানায় আসেন। তবে এই বাড়ীর মালিক বশির আহম্মেদই মূলত কারখানাটির সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন।

কারখানায় মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে কয়েল বানানো হচ্ছে দেখা গেছে। এখানে কর্মরত নারী ও পুরুষ কর্মীদের কোনো ধরণের ‘ফেস মাস্ক’ ছাড়াই খালি পায়ে কাজ করতে দেখা গেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় যেটা এই প্রতিবেদক দেখতে পেয়েছেন তা হলো, বশির আহম্মেদ নামের এই বাড়িওয়ালা তিতাস গ্যাসের আবাসিক সংযোগ গ্রহন করে সেখান থেকে আলাদা অতিরিক্ত পাইপলাইন ব্যবহার করে কয়েল কারখানার ‘ড্রায়ার রুম ‘ এ সংযোগ দিয়েছেন। ওই রুমে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহভাবে দাউ দাউ করে জ্বলছে গ্যাস। ভয়ানক উত্তাপে এই প্রতিবেদক ওই রুমের দরজার সামনে কয়েক সেকেন্ডও দাঁড়াতে পারেন নাই এমনই উত্তাপ।

অথচ, এই ‘ড্রায়ার রুম’ টি একেবারে আবাসিক এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তার সাথে। ওই রুম এর দেয়াল ভয়াবহভাবে উত্তপ্ত থাকে। এছাড়া বিদ্যুৎ এর লাইনও নেয়া হয়েছে ওই রুমের ভিতর দিয়েই। তাই গ্যাস লিকেজ সহ এভাবে দিনরাত কয়েল শুকানোর কাজে মাত্রাতিরিক্ত চাপের গ্যাস ব্যবহারের ফলে ভিতরে বিস্ফোরণ জাতীয় কিছু ঘটলে রাস্তার পাশের ওই দেয়াল ধ্বসে পড়ে প্রানহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এব্যাপারে ওই বাড়ির মালিক বশির আহম্মেদকে আবাসিক এলাকার ভিতরে মশার কয়েল তৈরীর কারখানা কতটুকু যৌক্তিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একাই তো করছি না, আরো অনেকে এভাবে বাসাবাড়িতে কয়েল তৈরী করছে।

তবে কয়েল কারখানায় শিল্প সংযোগ না নিয়ে কিভাবে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দিয়ে কাজ চলছে এবং বিষয়টি বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে কাজটি বৈধ নয়। তবে এক পর্যায়ে তিনি এই প্রতিবেদককে দুই ঘন্টা পরে এসে কারখানার মালিকের সাথে এবিষয়ে কথা বলে যেতে বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে নিউজ না করার ব্যাপারে আর্থিক প্রলোভন দেখান।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম এর নিকট মুঠোফোনে আবাসিক গ্যাস দিয়ে শিল্প সংযোগ এর কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল এব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত,বাজারে প্রচলিত ২০টি ব্র্যান্ডের মশার কয়েল পরীক্ষা করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের একটি গবেষণাগারে বাংলাদেশের ২৪টি ব্র্যান্ডের মশার কয়েল পরীক্ষা করা হয়। এগুলোর অধিকাংশের বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই। গবেষণায় কয়েলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) নির্ধারিত সর্বোচ্চ দশমিক শূন্য ৩ মাত্রার (এই মাত্রা মশা তাড়াতে কার্যকর, কিন্তু মরবে না) অধিক সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান (অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট) পাওয়া গেছে। এসব কয়েলের ধোঁয়ায় মশা, তেলাপোকাসহ কীটপতঙ্গ মারা পড়ছে। অথচ কয়েল কোম্পানিগুলোর মোড়কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রারই উল্লেখ আছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কয়েল ব্যবহারের ফলে ক্যানসার, শ্বাসনালিতে প্রদাহসহ বিকলাঙ্গতার মতো ভয়াবহ রোগ, এমনকি গর্ভের শিশুরও ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া লিভার-কিডনি বিকল হওয়া, ত্বকে চুলকানি, অ্যালার্জিসহ নানা চর্মরোগও হতে পারে।

এই যদি হয় বাজারে ব্র‍্যান্ডের মশার কয়েলের অবস্থা, তাহলে সাইনবোর্ডবিহীন অলিতে-গলিতে পলিথিনে প্যাকেট করা মশার কয়েলগুলির ভয়াবহতা কি পর্যায়ের সেটা সহজেই অনুমেয়। আশুলিয়ার মধ্য আউকপাড়া এলাকার বশির আহম্মেদ এর বাড়ির নিচতলায় যে মশার কয়েল কারখানাটি তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে, এর থেকে তৈরী নিম্নমানের কয়েল খুচরা বাজারে দেদারছে বিক্রী হচ্ছে। আর আবাসিক গ্যাস সংযোগ দিয়ে ‘ড্রায়ার রুম’ বানানোর ফলে গ্যাসের প্রচুর অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি ওই রুম বিস্ফোরিত হয়ে প্রানহানির আশংকা তো রয়েছেই। এজন্য স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন সহ এসব দেখার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই ঝুঁকিপূর্ণ কয়েল কারখানা বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছেন।

গ্যাস সংযোগ নিয়ে আবাসিক এলাকায় চলছে মশার কয়েলের অবৈধ কারখানা

গ্যাস সংযোগ নিয়ে আবাসিক এলাকায় চলছে মশার কয়েলের অবৈধ কারখানা

Gepostet von Barta Bazar am Montag, 30. Dezember 2019

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর