লোকসানের মুখে আগাম আলু চাষীরা

প্রথমে গম, এরপর আমন ধান। দুটো ফসলের পর এবার আগাম আলু চাষেও লোকসানের মুখ দেখছেন ঠাকুরগাঁও আগাম জাতের আলু চাষীরা। বাজারে পুরোনো আলু সরবরাহ থাকায় নতুন আলুর চাহিদা কম হওয়ায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি এলাকার কৃষকদের।

লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিত আলু। ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ জেলার মাটি আলু চাষে উর্বর হওয়ার কারণে প্রতি বছর অধিক লাভের আশায় দুই ধাপে আলু চাষ করে এ এলাকার কৃষকেরা। আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের আলু চাষ শুরু হয় এই এলাকায়। আগাম জাতের ধান কাটার পর ওই জমিতে আলু চাষ করা হয় আগাম জাতের।

ছবি- বার্তা বাজার

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে আগাম জামের আলু চাষ করা হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিতে কিছু জমির আলু নষ্ট হলেও পরে আর কোন ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি চাষীরা। এ জন্য আলু বাম্পার ফলনের দাবি কৃষি অধিদপ্তরের।

জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আলু চাষী নজরুল ইসলাম জানান, দুই একর জমিতে আলু চাষ করতে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের এক একর জমির আলু বিক্রি করেছি সত্তর হাজার টাকা। দিন দিন আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। শেষ পর্যায়ে পুজি তুলতেই হিমসিম খেতে হবে মনে হচ্ছে।

সদর উপজেলার আলু চাষী করিম উদ্দীন জানান, বাজারে এখনও পুরাতন আলুর সরবরাহ বিদ্যমান রয়েছে। পুরাতন আলুর দাম কম। এজন্য ক্রেতারা পুরাতন আলুতেই বেশি ঝুঁকছে। সে কারণে নতুন আলুর চাহিদা কমেছে বাজারগুলোতে। এ জন্য আলু চাষীদের লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে আগাম বিদেশি জাতের আলু প্রতিমণ ৬’শ টাকা বিক্রি হলেও প্রতিমণে ১শ থেকে দেড়শ টাকা বেড়ে বর্তমানে আলুর মণ ৭-৮’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যেখানে প্রতি বছরই আগাম আলু ১ হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি হতো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আফতাব উদ্দীন, আলুর বাজার দর কিছুদিন কম থাকলেও আবারও কেজি প্রতি ২-৪ টাকা করে বেড়েছে। ভালফলন হয়েছে আলুর। আমরা আশাবাদি লোকসানের মুখ দেখতে হবেনা কৃষকদের।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর