বিতর্কিতরাও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকায়

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তবে চলমান শুদ্ধি অভিযানে যেসব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো, দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল এমন অনেককেই দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসুর বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর, প্লট ও বাড়ি দখল, অবৈধ স্থাপনা, হত্যাচেষ্টাসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। শুদ্ধি অভিযান চলাকালে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি আড়ালে চলে যান। তবে গতকাল আওয়ামী লীগের ঘোষিত কাউন্সিলরদের মনোনয়ন লিস্টে তার নাম দেখে অবাক হয়েছেন এলাকাবাসী।

কেবল হাসুই নয়, এমন নানা অপরাধে অভিযুক্ত অন্তত ২০ কাউন্সিলরকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকাবাসীও। তারা বলছেন, নানা কারণে বিতর্কিত এসব কাউন্সিলরকে পুনরায় আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়ে চলমান শুদ্ধি অভিযানকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। জানা যায়, নানা অপরাধে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের শিরোনাম হন ডিএনসিসির ১ নম্বরে ওয়ার্ডে আফছার উদ্দিন খান, ৪ নম্বরে জামাল

মোস্তফা, ২৭ নম্বরে ফরিদুর রহমান খান, ২৯ নম্বরে নুরুল ইসলাম রতন। তবে এদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজের পিতা মো. জুম্মা খান স্থানীয় হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। যুবরাজের বিরুদ্ধে এর বাইরেও নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ক্যাসিনোকা-সহ নানা কারণে বিতর্কিত কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনকে। নানা অপরাধে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করলেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ২ নম্বর ওয়ার্ডে আনিসুর রহমান, ৩ নম্বরে মাকসুদ হোসেন, ৫ নম্বরে আশরাফুজ্জামান, ৭ নম্বরে আবদুল বাসিত খান, ১০ নম্বরে মারুফ আহমেদ মনসুর, ৩০ নম্বরে মোহাম্মদ হাসান, ৩৭ নম্বরে আবদুর রহমান মিয়াজী, ৫১ নম্বরে কাজী হাবিবুর রহমান হাবু, ৫৩ নম্বরে নূর হোসেন, ৫৫ নম্বরে নূরে আলম, ৫৬ নম্বরে মোহাম্মদ হোসেন, ৫৯ নম্বরে আকাশ কুমার ভৌমিককে।

ডিএনসিসিতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ১ নম্বরে আফছার উদ্দিন খান, ২ নম্বরে আলহাজ কদম আলী মাতব্বর, ৩ নম্বরে মোহাম্মদ জিন্নাদ আলী মাতব্বর, ৪ নম্বরে জামাল মোস্তফা, ৫ নম্বরে আবদুর রব নান্নু, ৬ নম্বরে সালাহউদ্দিন রবিন, ৭ নম্বরে তোফাজ্জল হোসেন, ৮ নম্বরে আবুল কাসেম মোল্লা, ৯ নম্বরে মুজিব সারোয়ার মাসুম, ১০ নম্বরে আবু তাহের, ১১ নম্বরে দেওয়ান আবুল মান্নান, ১২ নম্বরে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন তিতু, ১৩ নম্বরে হারুনুর রশিদ, ১৪ নম্বরে মফিজ উদ্দিন, ১৫ নম্বরে সালেক মান্নান, ১৬ নম্বরে মতিউর রহমান, ১৭ নম্বরে ইসহাক মিয়া, ১৮ নম্বরে জাকির হোসেন, ১৯ নম্বরে মফিজুর রহমান, ২০ নম্বরে জাহিদুর রহমান, ২১ নম্বরে মাসুম গনি, ২২ নম্বরে লিয়াকত আলী, ২৩ নম্বরে সাখাওয়াত হোসেন, ২৪ নম্বরে শফিউল্লাহ, ২৫ নম্বরে আবদুলাহ আল মঞ্জুর, ২৬ নম্বরে শামিম হোসেন, ২৭ নম্বরে ফরিদুর রহমান খান, ২৮ নম্বরে ফোরকান হোসেন, ২৯ নুরুল ইসলাম রতন, ৩০ নম্বরে আবুল হাসেম হাসু, ৩১ নম্বরে আলেয়া সারোয়ার ডেইজি, ৩২ নম্বরে সৈয়দ হাসান নুর ইসলাম, ৩৩ নম্বরে আসিফ আহমেদ, ৩৪ নম্বরে শেখ মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, ৩৫ নম্বরে মোক্তার সরদার, ৩৬ নম্বরে তৈমূর রেজা খোকন, ৩৭ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম, ৩৮ নম্বরে শেখ সেলিম, ৩৯ নম্বরে শফিকুল ইসলাম, ৪০ নম্বরে নজরুল ইসলাম ঢালি, ৪১ নম্বরে আবদুল মতিন, ৪২ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম, ৪৩ নম্বরে শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ৪৪ নম্বরে মোহাম্মদ শফিকুল শফিক, ৪৫ নম্বরে জয়নাল আবেদিন, ৪৬ নম্বরে সাইদুর রহমান সরকার, ৪৭ নম্বরে মোতালেব মিয়া, ৪৮ নম্বরে একেএম মাসুদুজ্জামান, ৪৯ শফিউদ্দিন মোল্লা, ৫০ নম্বরে ডিএম শামিম, ৫১ নম্বরে শরীফুর রহমান, ৫২ নম্বরে ফরিদ আহমেদ, ৫৩ নম্বরে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও ৫৪ নম্বরে জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন ১ নম্বরে মাহবুবুল আলম, ২ নম্বরে আনিসুর রহমান, ৩ নম্বরে মাকসুদ হোসেন, ৪ নম্বরে জাহাঙ্গীর হোসেন, ৫ নম্বরে আশরাফুজ্জামান, ৬ নম্বরে সিরাজুল ইসলাম ভট্টি, ৭ নম্বরে আবদুল বাসিত খান, ৮ নম্বরে ইসমাইল জবিউল্লাহ, ৯ নম্বরে মোজাম্মেল হক, ১০ নম্বরে মারুফ আহমেদ মনসুর, ১১ নম্বরে হামিদুল হক সামিম, ১২ নম্বরে গোলাম আশরাফ তালুকদার, ১৩ নম্বরে এনামুল হক, ১৪ নম্বরে ইলিয়াসুর রহমান, ১৫ নম্বরে রফিকুল ইসলাম বাবলা, ১৬ নম্বরে নজরুল ইসলাম, ১৭ নম্বরে মাহবুবুর রহমান, ১৮ নম্বরে ফেরদৌস আলম, ১৯ নম্বরে আবুল বাশার, ২০ নম্বরে ফরিদ উদ্দিন রতন, ২১ নম্বরে আসাদুজ্জামান আসাদ, ২২ নম্বরে জিন্নাত আলী, ২৩ নম্বরে মকবুল হোসেন, ২৪ নম্বরে মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ, ২৫ নম্বরে আনোয়ার ইকবাল, ২৬ নম্বরে হাসিবুর রহমান মানিক, ২৭ নম্বরে ওমর বিন আব্দুল আজিজ, ২৮ নম্বরে মোহাম্মদ সালেহীন, ২৯ নম্বরে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, ৩০ নম্বরে মোহাম্মদ হাসান, ৩১ নম্বরে শেখ মোহাম্মদ আলমগীর, ৩২ নম্বরে আব্দুল মান্নান, ৩৩ নম্বরে আউয়াল হোসেন, ৩৪ নম্বরে মীর সমির, ৩৫ নম্বরে আবু সাইদ, ৩৬ নম্বরে রঞ্জন বিশ্বাস, ৩৭ নম্বরে আবদুর রহমান মিয়াজী, ৩৮ নম্বরে আহম্মেদ ইমতিয়াজ মন্নাফি, ৩৯ নম্বরে রোকন উদ্দিন আহম্মেদ, ৪০ নম্বরে আবুল কালাম আজাদ, ৪১ নম্বরে সারোয়ার হাসান আলো, ৪২ নম্বরে মোহাম্মদ সেলিম, ৪৩ নম্বরে আরিফ হোসেন, ৪৪ নম্বরে নিজাম উদ্দিন, ৪৫ নম্বরে হেলেনা আক্তার, ৪৬ নম্বরে শহিদুল্লাহ, ৪৭ নম্বরে নাসির আহমেদ ভূঁইয়া, ৪৮ নম্বরে মোহাম্মদ আবুল কালাম, ৪৯ নম্বরে আবুল কালাম আজাদ, ৫০ নম্বরে মাসুম মোল্লা, ৫১ নম্বরে কাজী হাবিবুর রহমান হাবু, ৫২ নম্বরে মোহাম্মদ নাছিম মিয়া, ৫৩ নম্বরে নূর হোসেন, ৫৪ নম্বরে মোহাম্মদ মাসুদ, ৫৫ নম্বরে নূরে আলম, ৫৬ নম্বরে মোহাম্মদ হোসেন, ৫৭ নম্বরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ৫৮ নম্বরে শফিকুর রহমান, ৫৯ নম্বরে আকাশ কুমার ভৌমিক, ৬০ নম্বরে লুৎফুর রহমান রতন, ৬১ নম্বরে শাহে আলম, ৬২ নম্বরে মুস্তাক আহমেদ, ৬৩ নম্বরে শফিউল ইসলাম খান, ৬৪ নম্বরে মাসুদূর রহমান মোল্লা, ৬৫ নম্বরে শামসুদ্দিন ভূঁইয়া, ৬৬ নম্বরে হানিফ তালুকদার, ৬৭ নম্বরে ফিরোজ আলম, ৬৮ নম্বরে মাহমুদুল হাসান, ৬৯ নম্বরে হাবিবুর রহমান হাসু, ৭০ নম্বরে আতিকুর রহমান, ৭১ নম্বরে খাইরুজ্জামান, ৭২ নম্বরে শফিকুল ইসলাম শামিম, ৭৩ নম্বরে মো. শফিকুল ইসলাম, ৭৪ নম্বরে মোহাম্মদ ফজর আলী এবং ৭৫ নম্বরে সৈয়দ মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর