সম্প্রতি হজ্জ্ব পালন করে আসছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এর মিডফিল্ডার পল পগবা। বর্তমানে ইসলামিক কর্মকান্ডে খুবই সক্রিয় তিনি। আর তাই ইসলাম নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা ফুটিয়ে তুলে নিজ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ব্যাখ্যা করেছেন এ তারকা খেলোয়াড়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টকে পগবা বলেন, ‘সবাই যেভাবে দেখছে ইসলাম সে রকম না।
আমরা গণমাধ্যমে যা শুনি তা ভিন্ন কিছু। ইসলাম খুবই সুন্দর। ইসলাম জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে দিয়েছে। আমার ভেতরে শান্তি এনে দিয়েছে। এটা আমার জীবনে ভালো একটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে।’ ফরাসি এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে যারা মুসলমান। আমরা সব সময় কথা বলি। আমি নিজেকেও প্রশ্ন করি। আমি আমার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একবার নামাজ পড়ি। তারপর বুঝতে পারি অন্য রকম লাগছে।
আমার খুব ভালো লাগছিল। তারপর থেকে আমি শুরু করি। নামাজ ইসলামের মূল স্তম্ভ। আপনি ক্ষমা চাইছেন, সবার জন্য দোয়া করছেন।’ এ সময় পগবা আরো বলেন, ‘ইসলাম আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমাকে ভালো মানুষে পরিণত করেছে। ইসলাম মানবতাকে শ্রদ্ধা করে।’ তাছাড়া ইসলামের শান্তির বাণী শুনে মুগ্ধ হয়ে যুগে যুগে অন্য ধর্মাবলম্বীরা ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন। এবার ইউরোপিয়ান দেশ নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডমের নিউ ওয়েস্ট জেলায় অবস্থিত ব্লু-মস্ক বা নীল মসজিদে আজানের মধুর ধ্বনি শুনতে ভিড় জড়াচ্ছেন অমুসলিমরাও।
এদিকে গত ৮ নভেম্বর থেকে এই মসজিদে উচ্চস্বরে আজান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিচালনা কমিটি। কিন্তু মুসলিম-বিদ্বেষীরা এটা জানতে পেরে মাইকে আজান বন্ধ করতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই আগের মতোই আরও কয়েক দিন মুখে আজান দেয়া হচ্ছিল। মুসলিমরা এ বিষয়ে পালটা পদক্ষেপ না করলেও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছিল। পরে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই গত শুক্রবার পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করে উচ্চস্বরে জুম্মার আজান দেয়া হয়।
আর এদিনই প্রথম এই মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছয়। আজান বা নামাযের জন্য মোয়াজ্জেনের আহ্বান কেমন লাগে, তা শুনতে এ দিন মসজিদের কাছে অনেক অমুসলিম জড়ো হন। অনেকেই মোবাইলে আযানের অডিও রেকর্ড করেন। কেমন লাগল আজান? জবাবে তারা বলেন, সত্যিই এক অনন্য অনুভূতি। এই আবেগময় মুহূর্ত সারাজীবন মনে থাকবে। কেউবা বলেন, মাঝেমধ্যে মোবাইলে রেকর্ড করা আযান শুনব।
এ ব্যাপারে মসজিদের প্রধান মাতাওয়াল্লি নূরুদ্দিন ওয়াইল্ডম্যান বলেন, ‘মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কিছু দুষ্কৃতিকারী। স্থানীয় অমুসলিমদের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। তারা এ জঘন্য কাজ করতে পারেন না বলেই আমাদের বিশ্বাস। তাই তো তারা আজ জুমার আজান শুনতে সব কাজ ফেলে এখানে এসেছেন।’ এজন্য তাদেরকে মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বার্তাবাজার/কেএ