জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যবস্থাপনার দিক থেকে বলতে পারি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমে অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইভিএমে বিএনপির কারচুপির আশঙ্কা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনআইডির ডিজি বলেন, ‘কেউ যদি নিরীক্ষণ করতে চান, তাহলে তাদের আমরা স্বাগত জানাই। আমরা ইভিএম প্রদর্শনীর আয়োজন করবো। কারও সন্দেহ থাকলে, তারা এসে দেখতে পারেন। আমরা যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি, তাতে আমাদের বিশ্বাস কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কারও পক্ষে করা সম্ভব হবে না। কারও কনফিউশন থাকলে আমরা তাদের কাছে পৌঁছে যাবো।’
ঢাকার দুই সিটিতে প্রায় ৩৫ হাজার ইভিএম ব্যবহার হবে জানিয়ে এনআইডির ডিজি বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬০০ কেন্দ্র ও ১৪ হাজার ৬০০ ব তার বেশি ভোট কক্ষ থাকবে। আমরা সিটি নির্বাচনের জন্য ইভিএম প্রস্তুত করছি। প্রিজাইডি, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। ভোটারদের প্রশিক্ষিত করতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছি, লিফলেট, বুকলেট ও টিভি বিজ্ঞাপন তৈরি করেছি।’
ইভিএম নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, ‘ইভিএমের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুই জন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করেছি। এছাড়া, রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করলে তাদের জন্য সুবিধা হবে, সেভাবে নিরাপত্তাবাহিনী নিয়োগ দেওয়া হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র্যাব-বিজিবি থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি, কোন কেন্দ্রের সামনের রাস্তা কী ধরনের—সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।’
ইভিএমে রি-কাউন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে এনআইডির ডিজি বলেন, ‘লক সিস্টেম থাকবে। কেউ আবেদন করলে সেই সুযোগ রয়েছে। বিধি মোতাবেক সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে, কেউ পুনরায় কাউন্ট করতে চাইলে কমিশনে আবেদন করতে হবে, পরে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। টোটাল সিস্টেম সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে লক সিস্টেম রয়েছে। সেই সিস্টেমে এই তথ্য সংরক্ষিত থাকে।’ কেউ যদি ভবিষ্যতে এটি দেখতে চায়, সে ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস