ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে সাজঘরে স্যার অ্যালিস্টার কুক, পরের বলে সরাসরি বোল্ড ম্যাট প্রায়র। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তৃতীয় বলে স্টুয়ার্ট ব্রডকে নিখুঁত ইয়র্কারে লেগ বিফোর- ব্রড অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচতে পারেননি। হয়ে যায় পিটার সিডলের হ্যাটট্রিক।
শুধু হ্যাটট্রিক হলে এক কথা ছিলো! আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগে ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর যে ছিলো সিডলের ২৬তম জন্মদিনও। যার ফলে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নিজের জন্মদিনে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি দেখান সিডল। যা তিনি স্মরণ করে থাকেন এরপর থেকে নিজের প্রতিটি জন্মদিনে।
তবে গত নয় বছর ধরে এ অবিস্মরণীয় কীর্তিটি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে স্মরণ করলেও, আগামী বছর আর এটি করতে পারবেন না ৩৫ বছর বয়সী এ ডানহাতি পেসার। কেননা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন সিডল।
চলতি সিরিজের দলে থাকলেও প্রথম দুই টেস্টের একাদশে জায়গা পাননি তিনি। ছিলেন না তৃতীয় টেস্টের জন্য দলের ভাবনাতেও। তার জায়গায় ডেকে নেয়া হয় লেগস্পিনার মিচেল সুইপসনকে এবং তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বিগ ব্যাশ খেলার জন্য। এরই মাঝে দ্বিতীয় টেস্ট শেষেই সতীর্থদের কাছে অবসরের কথা জানিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী সিডল।
২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে গত ১১ বছরে খুব বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি সিডলের। প্রথম ৬ বছর দলে নিয়মিত হলেও পরে আস্তে আস্তে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই তেমনভাবে বিবেচিত হননি।
সব মিলিয়ে ৬৭ টেস্ট, ২০ ওয়ানডে ও ২ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সিডল। এর মধ্যে টেস্টে ৮ বার পাঁচ উইকেটসহ সর্বমোট ২২১টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। যেখানে ছিলো ২০১০ সালের সেই বিখ্যাত জন্মদিনের হ্যাটট্রিক। এছাড়া ওয়ানডেতে ১৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ৩ উইকেট রয়েছে তার নামের পাশে। ব্যাট হাতে টেস্ট ক্রিকেটে ২টি ফিফটিও হাঁকিয়েছেন সিডল।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস