রওশনকে ছাড়াই জাপা’র সম্মেলন

জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদের ও মহাসচিব হিসেবে মশিউর রহমান রাঙ্গা দায়িত্ব পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত এইচ এম এরশাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত দলটি এবারই প্রথম এরশাদবিহীন কাউন্সিল করলো। কাউন্সিলে ছিলেন না এরশাদপত্নী রওশন এরশাদও। তবে কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে রওশন এরশাদকে দলের প্রধান পৃষ্টপোষক করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চেয়ারম্যানের নাম প্রস্তাব করেন। সেখানে উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের সম্মতিতে তারা নির্বাচিত হন। এরপর চেয়ারম্যান জি এম কাদের মহাসচিবের নাম প্রস্তাব করেন।

সম্মেলনে জি এম কাদের বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে নেতাকর্মীদের ছড়িয়ে পড়তে হবে। আজকে দেশে শূন্যতা বিরাজ করছে। অনেকে মনে করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি দুর্বল হয়েছে। না এরশাদের মৃত্যুর পরে পার্টি আরো শক্তিশালী হয়েছে। আজকে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সেটি প্রমাণ করে। জাতীয় পার্টির এখন যুবক বয়স। আর এটাই যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময়।

যুদ্ধে যেতে হবে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায়, বৈষম্য মোকাবিলায়। বাস্তবায়ন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টিতে এখন কোনো দ্বন্ধ নেই। এরশাদের আদর্শকে আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পরবর্তীতে জনপ্রিয় নেতা হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের পার্টি।

আমাকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। সদালাপী, জেন্টেলম্যানস এরশাদ ও জাতীয় পার্টির কর্মী আছে সারা বাংলাদেশে। অনেকেই তার নামে অন্ধ। আজ তিনি থাকলে পরিবেশ আরো ভিন্নতর মাত্রা পেতো। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের মিত্রতা ১৯৯৬ সাল থেকে। আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। সেদিন জেলে বসেও এরশাদ আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। আমরা সরকার গঠন করতে পেরেছিলাম।

আমি জাতীয় পার্টির কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আরো বলেন, আগে বিরোধীদলের কর্মকাণ্ড ছিল ফাইল ছোড়া ছুড়ি করা। কিন্তু জাতীয় পার্টি আসার পরে সংসদে শান্তি ফিরেছে। প্রকৃত বিরোধীদলের কাজ করেছে। জাতীয় পার্টি ভায়োলেন্সের রাজনীতি করেনি। আবার সরকারের প্রশংসা করতে কখনও কুণ্ঠাবোধ করেনি। এরশাদের অবর্তমানে আমরা চাই জাতীয় পার্টি আরো এগিয়ে যাক।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, জাতীয় পার্টির মূল লক্ষ এগিয়ে যাওয়া। যত ধরণের ষড়যন্ত্র হোকনা কেন জাতীয় পার্টির মূল লক্ষ্য এগিয়ে যাওয়া, ক্ষমতায় যাওয়া। ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এটাই আমাদের প্রত্যয়। নতুন চেয়ারম্যান ও মহাসচিব সকলকে নিয়ে, রওশন এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে সকলে মিলে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই প্রত্যাশা রাখি।

কাউন্সিলে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, গোলাম কিবরিয়া টিপু, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মো. আবুল কাশেম, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাহিদুর রহমান, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এ টি ইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান রত্না, আব্দুর রশীদ সরকার, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, মুজিবর রহমান সেন্টু, আলহাজ সফিকুল ইসলাম সেন্টু, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মো. মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, নাজমা আখতার, আব্দুস সাত্তার মিয়া, এমরান হোসেন মিয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, সেলিম ওসমান প্রমুখ।

সকালে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়। পরে শোক প্রস্তাব পাঠ করা হয়। স্মরণ করা হয় প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন মশিউর রহমান রাঙা। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর