বেড়েই চলেছে সয়াবিন তেলের মূল্য। গত তিন সপ্তাহে লিটারে বেড়েছে ১০ থেকে ১৪ টাকা। বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের পাশাপাশি বেড়েছে পামঅয়েলের মূল্যও। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, মানিকনগর, কাওরান বাজার এলাকার দোকানগুলোয় এই চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১২ ডিসেম্বর থেকে বেড়েছে ভোজ্যতেলের মূল্য। শীত বাড়ার সাথে সাথে তারা এই পণ্যটির মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেল ও খোলা পামঅয়েলের মূল্য। গত তিন সপ্তাহে খোলা পামঅয়েল লিটারে বেড়েছে ১৪ টাকা। ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতি লিটার খোলা পামঅয়েলের মূল্য ছিল ৬০ টাকা। গত ১৩ ডিসেম্বর ৫ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। ২০ ডিসেম্বর আরো ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা। আর এই সপ্তাহে লিটারে ৪ টাকা বেড়ে গতকাল এই খোলা পামঅয়েল বিক্রি হয়েছে ৭৪ টাকায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, ‘শীত যত বাড়বে। সয়াবিন তেল ও পামঅয়েলের মূল্য ততই বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমত, মিল মালিকরা সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, শীত বেড়ে যাওয়ায় পামঅয়েল জমাট বেঁধে গেছে। ফলে সয়াবিনের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে পাইকারি বা খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন ও পাম অয়েলের মূল্য বেড়েছে।’
এ দিকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, সব ধরনের সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে। গত এক মাসে খোলা পামঅয়েলের মূল্য বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে মুদি দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খোলা সয়াবিনের পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্যও বেড়েছে। এই সপ্তাহে ৫ লিটার ওজনের প্রতিটির মূল্য বেড়েছে ১০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে অবশ্য ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য বেড়েছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ গত তিন সপ্তাহে প্রতিটি বোতলের মূল্য বাড়ল ২৫ টাকা।
ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতিটি ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতো ৪৩০ টাকা করে। ১৩ ডিসেম্বর মূল্য বেড়ে ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। গতকাল ৫ লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৪৫৫ টাকা।
এ দিকে টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটারে বেড়েছে ৬ থেকে ৮ টাকা। গত নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখে এই সয়াবিনের মূল্য ছিল ৮০ টাকা লিটার। গতকাল প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায়।
টিসিবির তথ্য বলছে, একমাস আগে প্রতি লিটার পামঅয়েল (খোলা) বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা। এই সেই পামঅয়েল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে পামঅয়েলের (সুপার) মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। টিসিবির হিসাবে, এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য আগের মতোই থাকলেও ৫ লিটার ওজনের সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে ২৫ টাকা। সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো দাম কমেছে সব ধরনের সবজির। কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে সবজির দাম। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের দাম। আগের মতো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। এ ছাড়া গোশত, ডিম, মুরগি, ডাল, চাল, চিনি ও ভোজ্যতেলও বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, খিলগাঁও, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি বাজার, ফকিরাপুল কাঁচা বাজার, শান্তিনগর কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাংলানিউজ।
সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে কেজিপ্রতি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো (কাঁচা) ২০ থেকে ২৫ টাকা, শিম (কালো) ৪০ টাকা, শিম (সাদা) ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৬০ টাকা, নতুন আলু ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুরাতন আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। দাম কমে প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা-ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২৫ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ক্ষিরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।
তবে কিছুটা বেড়েছে মরিচের দাম। কাঁচামরিচ বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া ৫ থেকে ১০ টাকা কমে আকারভেদে প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, ফুলকপি ১৫ থেকে ২৫ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৬০ টাকায়। এসব বাজারে আটিপ্রতি (মোড়া) কচুশাক ৫ টাকা, লালশাক ৮ থেকে ১০ টাকা, মুলা ৮ থেকে ১০ টাকা, পালংশাক ৮ থেকে ১৫ টাকা, পুঁইশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
দাম কমেছে পেঁয়াজের। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব বাজারে আমদানি করা মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি দরে। দেশি নতুন পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। গাছসহ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে, আমদানি করা মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।
মো: নাসিম নামে শান্তিনগর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এটা ভালো দিক। তবে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এ বছর এখনো বাড়তি মনে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে আসেনি।
সবজি বিক্রেতা হারুন বলেন, এখন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দামও কমেছে। তবে সবজির দর নির্ভর করে মাল সরবরাহের ওপর, মাল কম হলে দাম বাড়ে। এখন দেশী পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমতে শুরু করেছে।
অন্য দিকে আগের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। এসব বাজারে প্রতি কেজি (এক কেজি সাইজ) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে। জাটকা ইলিশের কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মলা ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বাগদা ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশী চিংড়ি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাস ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা, লেয়ার ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৬০ থেকে ২৮০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৮০ টাকা, বকরি ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম, ডাল, চাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম।
বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস