উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের গোল চত্বর হতে শুরু হওয়া হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামত কাজের কারণে দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় ৮-১০ কি:মি: এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।
এ কারণে রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর সহ দক্ষিনবঙ্গের কিছু যানবাহনে থাকা হাজার হাজার যাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী শ্যামলী পরিবহণের যাত্রী আক্কাছ আলী জানান, সামান্য ৮-১০ কিঃমিটার রাস্তা পার হতে ৩-৪ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ন্যাশনাল পরিবহণের চালক আওলাদ আলী (৫৫) জানান, তাড়াশের মহাসড়কের ওই অংশে যানজট এড়াতে ভারী গাড়িগুলো মহাসড়কের পার্শ্ব রাস্তায় নেমে যাওয়ায় ওই এলাকায় পরিবহণ চলাচলে অরাজকতা চলছে।

এদিকে মেরামত কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন অংশে নতুন করে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশের খালকুলা থেকে ১০ নং ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ১০ কি:মি: পর্যন্ত মহাসড়কে আবারও প্রচুর খানা খন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামতের জন্য ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শুরু করেছে। যার ফলে যাত্রীবাহী ও মালবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়ছে তাড়াশের মহাসড়কের মহিষলুটি থেকে ১০ নং ব্রীজ পর্যন্ত এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, গত সপ্তাহ থেকে ভোর থেকে গভীর পর্যন্ত যানজট ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপচয় হচ্ছে মাত্র ৫ কিঃ মিটার মহাসড়ক পার হতে। আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে যানজট বেড়েই চলছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের একপাশে বন্ধ রেখে আরেক পাশের যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এই রেশনিং পদ্ধতির কারণে মহাসড়কের দু’পাশের প্রচুর যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে দিনের পর দিন। আর এই ৮-১০ কি:মি: এলাকাজুড়ে যানবাহনগুলো দীর্ঘ লাইনে ধীরগতি তো রয়েছেই।
এমনকি হাটিকুমরুল-বনাপাড়া মহাসড়কের নিচের অংশের সড়কটিরও ৫-৬ কিঃ মিটার ভারী যানবাহন চলার কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মূলতঃ মহাসড়ক মেরামত করতে গিয়ে যানজটে পড়া ভারী যানবাহনগুলোর পার্শ্ব রাস্তায় চলাচল করায় সেটিও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অথচ সড়ক ও জনপদ বিভাগ নির্বিকার রয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক মহাসড়কের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই মেরামত কাজ শেষ করতে আরো ৩-৪ মাস সময় লাগবে।
বার্তাবাজার/এমকে