বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন ২০টি দেশের ৩৫ জন স্বনামধন্য ব্যক্তি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় তারা বাংলাদেশ সফর করেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব বিদেশি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের লেখক, সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ, কূটনীতিক ও সাংবাদিকরা ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন, আদর্শ ও অবদান সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানাতে বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের চলমান জনকূটনীতি কার্যক্রমের আওতায় এই কর্মসূচি হাতে নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বছর বছর পূর্ণ হবে। এদিন জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়ে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্তেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
বর্হিবিশে^ মুজিববর্ষ সম্পর্কে প্রচার ছাড়াও বিদেশি প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরকে বিভিন্ন কারণে বেশ গুরত্বপূর্ণ মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা। সফরে আসা প্রতিনিধিরা মুজিববর্ষ সম্পর্কে বিশ^কে জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ তথা এখানে চলমান উন্নয়ন, পর্যটন খাতের সৌন্দর্য এবং এখানকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ যার যার দেশে গিয়ে তুলে ধরবেন বলেও ভাষ্য কর্মকর্তাদের।
এছাড়া তারা আরও মনে করছেন, বিদেশি প্রতিনিধিদের সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টিও বর্হিবিশ্বে আরও প্রচার পাবে। আর তা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
কূটনীতিক মহলও বিদেশি প্রতিনিধিদের সফরকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। এই ধরণের সফর বর্হিবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকার পাশাপাশি বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বৃদ্ধি করবে বলেও তাদের অভিমত।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় গত শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সফররত বিদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিদেশি প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাদের কলম ব্যবহারে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে এখানে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এদের সেখানে (রাখাইন) ফিরিয়ে নিতে আপনারাও কলম ধরুন।’
বাংলাদেশ সফরকালে প্রতিনিধিরা কন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জাতীয় জাদুঘর ও জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন। বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং সুন্দরবনের কটকা ও কচিখালী এলাকা পরিদর্শন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই ধরণের উদ্যোগ বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। এতে করে বর্হিবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বেশি পরিমানে বৃদ্ধি পাবে বলেই আমরা মনে করছি।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি