স্ত্রীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সৌদি প্রবাসী মোশাররফ হোসেন উজ্জল (৩৫) দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের বাড়ি উজ্জল নোয়াখালী। মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্যাতিতা নারীর পরিবার সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন কলির সাথে পারিবারিকভাবে মোশাররফ হোসেন উজ্জলের বিয়ে হয়। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুক দাবি করে আসছিল উজ্জল। টাকা না আনায় কলির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল উজ্জল। পরে একাধিকবার বিদেশ যাওয়ার জন্য বাবার বাড়ি থেকে কলি টাকা এনে দেয় উজ্জলকে। পরে সে ওই টাকা দিয়ে সৌদিতে যায়। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, দুই মাস আগে উজ্জল দেশে এসে জেলা শহর মাইজদী বছিরার দোকান এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় উঠে। দেশে আসার পর আবারও যৌতুকের জন্য কলির ওপর নির্যাতন শুরু করে উজ্জল।
সর্বশেষ গত বুধবার রাতে উজ্জল আবারও কলিকে মারধর শুরু করে। এর একপর্যায়ে শিশু সন্তানকে বেঁধে রেখে কলির মাথার চুল কেটে দিয়ে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ছ্যাঁকা দেয়। পরে গোপনে ছেলেকে নিয়ে মাইজদীর বাসা থেকে পালিয়ে বাবার বাড়ি সোন্দলপুর চলে আসে কলি। শুক্রবার তাকে চিকিৎসার জন্য কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানেও সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় উজ্জল। সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য কলিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। সেখান থেকে রাতে কলিকে জেলা সদরে নেওয়ার সময় আবারও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উজ্জল।
পরে স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে কলি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সুধারাম থানার ওসি নবির হোসেন জানান, মামলায় নির্যাতিতার স্বামী মোশাররফ হোসেন উজ্জলকে একমাত্র আসামী করা হয়।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি